নামাল-(Namal) অধ্যায়:০৯ পর্ব ৩৮, #ফারিস_গাজী (Faris Ghazi) #জুমার_ইউসুফ (Zumar Yousuf)


 #নামাল-(Namal)


#ফারিস_গাজী (Faris Ghazi) 

 

#জুমার_ইউসুফ (Zumar Yousuf) 



অধ্যায়:০৯


পর্ব :-৩৮



Ab ke hum bichhde to shayad kabhi khwabon mein milein... Jis tarah sookhe hue phool kitaabon mein milein



[এবার যদি আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই, তবে হয়তো কোনোদিন কেবল স্বপ্নেই দেখা হবে... ঠিক যেভাবে শুকিয়ে যাওয়া ফুলগুলো বইয়ের পাতায় খুঁজে পাওয়া যায়।]


জেলের বারান্দায় প্রতিদিনের চিরচেনা আওয়াজগুলো প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। উঠোনে কয়েদিরা এদিক-ওদিকে ঘোরাঘুরি করছিল, কেউ কেউ কাজ করছিল। এক কোণায় শীতের মিষ্টি রোদকে উপেক্ষা করে ওরা দুজনেও দাঁড়িয়ে ছিল। ফারিস এক পা মুড়ে দেয়ালের সাথে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, আর আহমেদ ওর সামনে বুক জমিয়ে হাত দুটো আড়াআড়ি করে রোদের কারণে চোখ কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে ছিল।


"চিন্তায় আছ আহমেদ?"


"না ভাইয়া!" আহমেদ অস্বস্তি নিয়ে মাথা ঝেড়ে নিল এবং চোখ ছোট ছোট করে দূরের সাদা পোশাক পরা কয়েদিদের দিকে তাকাতে লাগল।


"এই!" ফারিস ওর মুখের সামনে হাত নাড়ল। "কোনো সমস্যা হয়েছে?"


"হাশিম এই hearing-এ আসেনি। ও শুধু তারিখ টালবাহানা করে পিছিয়ে যাচ্ছে। পরের সপ্তাহেও আসবে কি না জানি না।" আর এতগুলো দিনের মধ্যে এই প্রথমবার ওকে ভীষণ হতাশ দেখাচ্ছিল।


"হাশিমের প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করে থাকলে এমনই হবে।" তারপর ফারিস এদিক-ওদিক এক নজর দেখে নিয়ে আহমেদের একটু কাছে ঘেঁষে এল। "আমাকে বা তোমাকে কোনো আদালত এখান থেকে বের করবে না। এখনও সময় আছে, আমার plan-টার কথা ভাবো।"


আহমেদ হালকা মাথা নেড়ে সায় দিল। ফারিস হাতের কাগজের টুকরোটা মুখে পুরে দিল আর ওটা চিবোতে চিবোতে ঘাড় ঘুরিয়ে সামনের দিকে তাকাতে লাগল। একজন পুলিশ কর্মকর্তা এই দিকেই আসছিল। ও কাছাকাছি আসতেই আহমদ কিছুটা পেছনে হটল।


"তোমার দর্শনার্থী এসেছে গাজী।" সে ফারিসকে উদ্দেশ্য করে বলল।


"কে?" কাগজ চিবোতে চিবোতে কিছুটা বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করল সে।


"প্রসিকিউটর ম্যাডাম।"


কাগজের টুকরোটা ওর গলায় আটকে গেল, চিবানো চোয়াল দুটো থমকে গেল। সে চমকে উঠে প্রথমে পুলিশের দিকে, তারপর আহমদের দিকে তাকাল। আহমদও এক ঝটকায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।


"মহিলাটা এসেছে? আপনার সাথে দেখা করতে?" ধাক্কাটা এতটাই তীব্র ছিল যে সে ওকে বারণ করার সুযোগও পেল না। ফারিস মুখ থেকে কাগজটা ফেলে দিল আর কোনো কথা না বলে চুপচাপ সিপাইয়ের পেছনে পেছনে হাঁটা ধরল।


সে যখন interview রুমে ঢুকল, টেবিলের ওপারে চেয়ারে সে বসে ছিল। কোঁকড়ানো চুলগুলোর অর্ধেক একটা ক্লিপ দিয়ে আটকানো ছিল। পায়ের ওপর পা তুলে, কাঁধের চারপাশে শাল জড়িয়ে সে ঘন ঘন কবজির ঘড়িটা দেখছিল। পায়ের আওয়াজ পেতেই ও চোখ তুলল। ফারিস ছোট ছোট পা ফেলে এগিয়ে এল আর ওর সামনের চেয়ারটায় বসল। চুলগুলো আগের মতোই পনিটেল করা ছিল আর মুখে হালকা দাড়ি-গোঁফের রেখা দেখা যাচ্ছিল।


"Long time ম্যাডাম!" চোখ কুঁচকে ও জুমারকে দেখছিল।


জুমার আলতো করে মাথা নাড়ল। "Long time ফারিস!"


সে নিজের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ওর ওপর স্থির করল। হাত দুটো কোলের ওপর রেখে মুঠো শক্ত করে নিজের ভেতরের আবেগ চেপে রাখল। ওর মস্তিষ্কের পর্দায় আবার সেই পুরোনো আওয়াজগুলো প্রতিধ্বনিত হতে লাগল—(আমি তোমাকে মাত্র একটা গুলি করব জুমার। I am sorry.) সে এই যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতিগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে চাইল, কিন্তু এটা সহজ ছিল না।


"So?" দুজনে সামনাসামনি বসে ছিল আর ফারিস ওর চোখের দিকে তাকিয়ে উত্তরের অপেক্ষা করছিল।



আমি তোমার কথা শুনতে এসেছি। তুমি আড়াই বছর ধরে এটাই অনুরোধ করছিলে না? তো এখন আমি এখানে আছি। বলো, যা বলার আছে বলো।


ফারিসের ঠোঁটে এক বিষণ্ণ হাসি ফুটে উঠল।


"দেরি করে ফেললেন আসতে। এখন আমার আপনার আইনের ওপর আর কোনো আশা নেই।"


জুমার চুপচাপ ওর দিকে তাকিয়ে রইল।


"বলবো আমি আপনাকে কী বলতে চাই?" সে হাত দুটো একসাথে মিলিয়ে টেবিলের ওপর একটু ঝুঁকে বসল এবং প্রতিটি শব্দ চিবিয়ে চিবিয়ে উচ্চারণ করল। "এটাই যে, আমার স্ত্রীর মৃত্যুর জন্য আপনিও দায়ী। আপনার উচিত ছিল ওর হাত ধরে ওখান থেকে পালিয়ে যাওয়া। আপনার ওকে বাঁচানো উচিত ছিল। ওর খেয়াল রাখা উচিত ছিল। কিন্তু নিজের convincing power-এর ওপর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস থাকার কারণে আপনি ওরও ক্ষতি করলেন আর নিজেরও।"


জুমার এখন চেয়ারের হাতলে কনুই রেখে, থুতনির নিচে আঙুল ঠেকিয়ে ওকে দেখছিল।


"আমার নিজের পক্ষে বলার মতো কোনো বড় কথা নেই। এই আইনের ওপর থেকে মন উঠে গেছে। শুধু এতটুকুই বলব, তিনটে বছর আপনার শহরে কাটিয়েছি, আপনি আমাকে এতটুকু তো চিনতেন যে একটা বার আমার কথাটা শুনতেন। এতটুকু তো মনে রাখতেন যে আপনি আমার শিক্ষক ছিলেন। একটা বার তো মুদ্রার ওপিঠটা দেখতেন!" সে আবার থামল, হয়তো ভেবেছিল জুমার কিছু বলবে, কিন্তু সে নিস্পৃহ হয়ে শুনছিল। নাকের নাকফুলটা তখনও চকচক করছিল। ফারিস যখন ওই নাকফুলের দিকে তাকাল, ওর কণ্ঠের তিক্ততা যেন ধুয়ে মুছে যেতে লাগল। স্নায়ু কিছুটা শিথিল হলো।


"আমাকে খুনি মনে করেন তো মনে করুন ম্যাডাম, মনে যা আসে ভাবুন, কিন্তু একবার আমার মামলাটা অবশ্যই দেখুন আর ওটাও নিজে দেখুন।" সে আবার পেছনে হেলান দিয়ে বসল। "কিছু বলবেন না আপনি?" এবার ওর গলা বেশ নিচু ছিল, নরম ছিল।


"আমি বলতে আসিনি, শুনতে এসেছিলাম। কারণ আমি যদি বলতে শুরু করি, তবে আওয়াজ বাইরে পর্যন্ত যাবে।" সে গভীর শ্বাস নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় উঠে দাঁড়াল। একদম blank চোখে ওর চোখের দিকে তাকাল। "নিশ্চিতভাবেই তোমার যা বলার ছিল তুমি বলে ফেলেছ, সো মিটিং শেষ।" আর চেয়ারটা পেছনে ঠেলে সে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।


ফারিস তীব্র কষ্ট নিয়ে ওকে চলে যেতে দেখল আর তারপর চোখ বুজে ঘাড় নিচু করে নিল।


সে যখন ব্যারাকে ফিরে এল, আহমদ উঠোনের ওই কোণায় অস্থির হয়ে পায়চারি করছিল। ওকে আসতে দেখে সে ব্যাকুল হয়ে এগিয়ে এল।


"কী বলছিল ওই মহিলা?" আশা আর আনন্দ নিয়ে সে জিজ্ঞেস করল।


"সে নিজের বিবেককে শান্ত করতে এসেছিল, তা না হলে ওর এখনও বিশ্বাস যে আমিই অপরাধী।" আহমেদের চোখে বিভ্রান্তি ফুটে উঠল।


"কিন্তু ও করলটা কী?"


"কিছু না, কারণ ও যদি কিছু বলে তবে আওয়াজ বাইরে পর্যন্ত যাবে।" সে দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। body language একদম শিথিল ছিল।


"কিন্তু ও এসেছে তো, তাই না? মানুষ তো আস্তে আস্তেই গলে।"


"সে আর আসবে না আহমেদ। আমি একটা সুযোগ পেয়েছিলাম আর ওটাও হাতছাড়া করে ফেললাম। ওকে convince করতে পারলাম না আমি।" সে ঘাড় ঘুরিয়ে চোখ ছোট করে রোদের দিকে তাকাতে লাগল। আশার আলো যেন এখন সূর্য থেকেও আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।


"কিন্তু মহিলার উচিত ছিল যে—"


"যদি তুমি আরেকবার ওকে ওই নামে ডাকো, তবে আমি আমার হাত তোমার চোয়াল পর্যন্ত নিয়ে যেতে বাধ্য হব আর তার ফলে তুমি নিজের দু-তিনটে দাঁত হারাবে।" সে যতখানি শান্তভাবে বলল, আহমদের চলন্ত জিব ততখানি দ্রুততায় লক হয়ে গেল। তারপর 'হুঁহ' বলে সে মাথা ঝেড়ে নিল।


🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼



Seif andaaz-e-bayan rang badal deta hai!! Warna duniya mein koi baat nayi baat nahin


[প্রকাশভঙ্গির চমৎকারিত্বই কথার রঙ বদলে দেয়!! তা না হলে এই পৃথিবীতে কোনো কথাই নতুন কোনো কথা নয়।]


জুমার যখন বাড়ি ঢুকল, বসার ঘর থেকে কথাবার্তার আওয়াজ আসছিল। হানিন এসেছিল। সে সেই দিকেই এগিয়ে গেল। বড় আব্বা হুইলচেয়ারে বসে মৃদু হেসে ওর দিকে তাকিয়ে ছিলেন আর হানিন সোফায় পা তুলে বসে ওনাকে কোনো কোরিয়ান নাটকের গল্প শোনাচ্ছিল। বেশ মজা নিয়ে, হেসে হেসে, চোখ গোল গোল ঘুরিয়ে। জুমারকে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ওর মুখের খই ফোটা বন্ধ হয়ে গেল।


সে গম্ভীর হয়ে পা নিচে নামাল। আস্তে করে সালাম করল। আব্বা ঘুরে তাকালেন। জুমার ক্লান্ত পায়ে এসে সামনের সোফাটায় বসল।


"আজ তোমার দেরি হয়ে গেল?" উনি জিজ্ঞেস করলেন। হানিন মাথা নিচু করে নিজের হাতের দিকে তাকাতে লাগল।


"আমি আদালত থেকে সোজা জেলে চলে গিয়েছিলাম। ফারিসের সাথে দেখা করতে।"


হানিন যেন ধাক্কা খেয়ে মাথা তুলল। জুমার ওটা পাত্তাই না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বলতে বলতে সাদাকাতকে ডাকতে লাগল যাতে ওর জিনিসপত্রগুলো ভেতরে নিয়ে যায়।


"ফারিসের সাথে... কী কথা হলো?" আব্বা অবিশ্বাস্য গলায় জিজ্ঞেস করলেন।


"ও চেয়েছিল আমি যেন ওর কথা শুনি, আমি শুনে নিয়েছি।" সাদাকাত ভেতরে এলে সে ওকে জিনিসগুলো গুছিয়ে রাখতে দিল। হানিন জলদি করে সামনে এগিয়ে এল, নিজের সব রাগ ভুলে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে জিজ্ঞেস করল:


"আর কি বিশ্বাসও করে নিয়েছেন?"


"ও বলেছে ও নির্দোষ, ব্যস। আর জেলে এমন কোনো মানুষ বন্দি নেই যে এই লাইনটা মন্ত্রের মতো বারবার আউড়ায় না।" সে ক্লান্তিতে নিজের রগ মোচড়াতে লাগল।


"ফুপ্পু, আমি ওদের সাথে ছিলাম, আমি পুলিশকেও বলেছিলাম, ও নির্দোষ।" সে আকুল হয়ে বলে উঠল। জুমার চোখ খুলে ওর দিকে তাকাল, আঙুল দিয়ে অনবরত রগ মোচড়াতে করতেই বলল:


"না বাছা, আমি তোমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাচ্ছি না।"


"কিন্তু আপনি একটা বার আমার কাছ থেকে তো শুনুন যে কী হয়েছিল?"


"Okay হানিন ইউসুফ!" সে মাথা নেড়ে সায় দিল, সোফায় পেছনে হেলান দিয়ে বসল, পায়ের ওপর পা তুলল। "তাহলে শুরু করা যাক।"


হানিন নিজের পিঠ সোজা করে নিল। বড় আব্বা এক নীরব অসহায়তা নিয়ে ওদের দুজনকে দেখতে লাগলেন, যারা সামনাসামনি বসে ছিল আর যাদের মাঝখানে অনেকখানি দূরত্ব ছিল।


"ওই দিন, যখন আমার ওপর গুলি চালানো হয়েছিল, তুমি হোটেলের রুমে ছিলে। একটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত প্রায়?"


"জি!" সে ঘাড় শক্ত করে বলল।


"আর এই সময়ে ফারিস কোথাও যায়নি?" জুমার গম্ভীরভাবে প্রশ্ন করছিল।



না, ও আমাদের সাথে ছিল।


"আর এই সময়ে তুমিও কোথাও উঠে যাওনি?"


"জি না।"


"তুমি সারাক্ষণ ওই রুমেই ছিলে?"


"জি।"


"আর এই সময়ে তুমি ফারিসের ওপর থেকে চোখ সরাওনি? ফারিস আর আলিশা ছাড়া আর কারও সাথে কোনো কথাও বলোনি?"


"না।"


"পুলিশকেও তুমি একদম এটাই বলেছিলে। আমি কি এটাকে তোমার চূড়ান্ত বক্তব্য ধরে নেব?"


"জি, হ্যাঁ প্রসিকিউটর!" বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘাড় উঁচিয়ে সে বলল। জুমার চোখ বুজল, একটা গভীর শ্বাস নিল, আর উঠে বাইরে চলে গেল। কয়েক মুহূর্ত পর সে যখন আবার ঘরে ফিরে এল, ওর হাতে ওই বাক্সটা ছিল যা ও আলমারির জুতো রাখার খোপে রাখত।


"এটা তোমার আম্মুর মোবাইলের বিল। ওই মোবাইলটা, যেটা ওই দিন তোমার কাছে ছিল।"


হানিন কিছুটা অবাক হয়ে ওই কাগজটা হাতে নিল, আর যখন ওটার ওপর চোখ বোলাল, ওর মুখ ফ্যাকাশে হতে শুরু করল।


"তুমিও পুলিশকে বলেছ যে তুমি এই সময়ে কারও সাথে কোনো কথা বলোনি, অর্থাৎ একটা মুহূর্তের জন্যও তুমি ফারিসের থেকে মনোযোগ সরাওনি। অথচ এই বিল অনুযায়ী তুমি দেড়টায় নিজের বাড়িতে চার মিনিট, আর পৌনে তিনটায় তোমার এক বন্ধুকে দশ মিনিটের জন্য কল করেছ।" তারপর একটা দ্বিতীয় কাগজ ওর সামনে রাখল।



এটা ওই হোটেলের লবির CCTV ক্যামেরার একটা still image। এতে তোমাকে নিচের একটা দোকানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে আর তখন সময় হয়েছে দুটো বেজে সতেরো মিনিট। অথচ তুমি বলেছিলে যে তুমি এই সময়ে রুম থেকে কোথাও যাওনি।


"আমি বলতে ভুলে গিয়েছিলাম, আর... আর এটা গুলি চালানোর অনেক আগের সময়।" সে কাঁপানো গলায় সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করল।


"না বাছা, আমি তোমার সাথে এই ব্যাপারে কোনো কথা এই জন্য বলিনি কারণ আমি জানতাম তুমি আড়াই ঘণ্টা একটা রুমে স্থির হয়ে বসে থাকতে পারো না।



আমি এটাও জানি যে তুমি এই কথাগুলো কেন বলোনি—তুমি ফারিসকে protect করতে চেয়েছিলে। কিন্তু হানিন, এটা সাক্ষ্যের ব্যাপার। আর সাক্ষ্যের ব্যাপারে আমাদের যদি কারও একটা কথাও মিথ্যে মনে হয়, তবে তার বাকি সব কথাও আর বিশ্বাসযোগ্য থাকে না। আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি, বিশ্রাম নিতে যাচ্ছি। তোমরা কথা বলো।


সে নরম গলায় বলতে বলতে কাগজপত্রগুলো আবার বাক্সে পুরে উঠে গেল। হানিন মুখ নিচু করে কতক্ষণ যে ওভাবেই বসে রইল, আর আব্বা... উনি শুধু আফসোস নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রইলেন। ওদের পরিবারের সব মানুষ যদি একটা দিনের জন্য নিজের বুদ্ধিমত্তার ওপর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস রাখা ছেড়ে দিত, তবে কতই না ভালো হতো...

🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼


Main chahti hoon mera aks mujhe ko lauta de... Woh aaina jise ek baar maine dekha tha


[আমি চাই আমার প্রতিবিম্ব আমাকেই ফিরিয়ে দেওয়া হোক... ওই আয়নাটা, যাতে একটা বার আমি নিজেকে দেখেছিলাম।]


ওই দিন ছোট বাগানওয়ালা বাড়িটাতে হানিনের চিৎকার-চেঁচামেচি লেগে ছিল। নিজের ঘরের সব আলমারি উলটপালট করে সে কাগজপত্র খুঁজছিল। এসএসসি-র সার্টিফিকেট, জন্মনিবন্ধন, পরিচয়পত্র। সবসময় ভর্তির শেষ তারিখ যখন মাথার ওপর এসে চড়াও হতো, তখনই ওর কাগজপত্র খুঁজে পাওয়া যেত না। এই খোঁজাখুঁজির চক্করে কত দিনের হারিয়ে যাওয়া ডজন ডজন জিনিসপত্র মিলত, কিন্তু মেইন জিনিসটাই গায়েব থাকত।


"কতবার বলেছি নিজের জিনিসগুলো গুছিয়ে সাজিয়ে রাখতে? মানুষের মেয়েদের দেখেছ কখনো, কীভাবে সব জিনিস..." আম্মুর বকাঝকা (যাকে সাদি background music বলত) রান্নাঘর থেকে শোনা যাচ্ছিল, তখনই সায়াম ঘরে ঢুকল।


"হানিন, তোমার জন্য একটা courier এসেছে। আমেরিকা থেকে।"


আলমারির ভেতর থেকে অর্ধেক বের হয়ে থাকা হানিন চমকে উঠল, তারপর বিরক্তি নিয়ে ওটার দিকে এগোলো। সায়াম ওকে জানানোর পাশাপাশি ওটা খুলছিলও। সে রুক্ষভাবে ওটা ওর হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ওকে ঘর থেকে তাড়াল আর তারপর নিজে খুলতে লাগল।


ভেতরে একটা ছোট বাক্স ছিল। তাতে একটা key chain ছিল। আলিশার key chain। সাথে একটা ভাঁজ করা চিঠি। ধকধক করতে থাকা মন নিয়ে হানিন কাগজের ভাঁজগুলো খুলল।


ডিয়ার হানিন,


আম্মুর কাছ থেকে জানতে পারলাম যে আড়াই বছর পর তোমার ফোন এসেছে। শুনে ভালো লাগল। আমি ওই জীবন থেকে বের হয়ে এসেছি যখন email আর text করতাম। এই জেলে বসে আমার চিঠি লেখাই বেশি শান্তিময় মনে হয়েছে, তাই লিখছি। অন্তত এটা তুমি না পড়ে delete তো করতে পারবে না।


হানিন ওখানেই মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জিনিসপত্রের মাঝখানে বসে পড়ল আর যেন দম বন্ধ করে পড়তে লাগল।


আমি আমার key chain-টা তোমাকে পাঠাচ্ছি। এটা আমার প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞার চিহ্ন। যখন হাশিম তোমার সামনে আমাকে অপমান করে বের করে দিয়েছিল, তখন আমি ভেবেছিলাম তুমিও তোমার ফুপ্পুর মতোই। যেমন সে ফারিসের কথা শোনেনি, তেমনই তুমিও আমার কথা শোনোনি। কিন্তু তোমরা দুজনেই নিজের জায়গায় ঠিক ছিলে। অনেক দিন আমি ভেবেছি যে হাশিমের থেকে এই কথার বদলা নেব, কিন্তু তারপর আমি বুঝলাম যে আমি এতটাই দুর্বল আর ভীতু একটা মেয়ে যে কারও কিছুই বিগড়াতে পারব না। সো আমি প্রতিশোধের ইচ্ছা ছেড়ে দিলাম। এই key chain-টাও তোমাকেই দিচ্ছি। সব মানুষের মধ্যে শুধু তোমাকেই। locket-টাও এই জন্যই তোমাকে দিয়েছিলাম যাতে একদিন আমরা গোপন কথার অংশীদার হয়ে যাই। আর তুমি আমার পাশে এসে দাঁড়াবে। তখন আমি আমার অধিকার পেয়ে যাব।


কিন্তু ওই দিন এখন আর কোনোদিন আসবে না হানিন। হতাশা মানুষকে ধ্বংস করে দেয়, আমাকেও করে দিয়েছে। আমি drugs-এ পালানোর পথ খুঁজেছিলাম, অপরাধের মধ্যে খুঁজেছিলাম। এখন মনে হয় জীবনটাই নষ্ট করে ফেললাম। তোমাকে এটাই জানানোর জন্য চিঠিটা লিখছি, কারণ আমার আর তোমার মধ্যে বুদ্ধিমত্তা ছাড়া আরও কিছু মিল আছে—আমাদের অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ার স্বভাবটা। বলে না, প্রতিটা মানুষের ভেতর দুটো নেকড়ে থাকে। একটা ভালোর, অন্যটা মন্দের। আধিপত্য সেটাই করে যেটাকে আমরা খাওয়াই-পালাই। আমি তোমাকে বলি হানিন, আমার ভেতরের নেতিবাচক নেকড়েটা আধিপত্য করে গেছে আর আমি ওটাই করে বসেছি যাকে দুনিয়া অপরাধ বলুক, প্রতারণা বলুক বা drugs বলুক... কিন্তু খোদা ওটাকে একটা শব্দেই ডাকেন—গোনাহ। আর আমি তোমাকে সতর্ক করছি, তোমারও এই evil নেকড়েটা আজ হোক বা কাল আধিপত্য করবেই, এই জন্যই সাবধান করছি।


গোনাহ কোরো না। কারও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ো না। কারও ভালো স্বভাবের সুবিধা নিয়ো না। আর আমি এটাও জানি যে তুমি এমনটা অবশ্যই করবে, কারণ তুমিও একজন evil genius। হয়তো আমার চেয়েও বড়। তো ব্যস এতটুকু জেনে রাখো হানিন যে সব গোনাহ শুধু তওবা করে নিলেই মাফ হয়ে যায় না। বড় গোনাহের বড় কাফফারা থাকে। সো ভুল কিছু কোরো না। কারণ কাফফারা দিতে দিতেই তোমার জীবন কেটে যাবে কিন্তু আফসোস কমবে না।


আমাকে এই চিঠির জবাব দিয়ো না।



আমি এই জেলেই আরও কিছু সময় থাকতে চাই, কোনো সম্পর্কের আশা ছাড়াই।


আমার ভুলের জন্য আমাকে মাফ করে দিয়ো। আমিও তোমাকে তোমার ভালো দিকগুলোর জন্য মাফ করে দিচ্ছি। দিনশেষে আমরা তিনজনই এক ধরনের। আমি, তুমি, জুমার... দুর্বল পিঁপড়ে, যারা সবসময় নিজেদের থেকে বহুগুণ বড় শত্রু তৈরি করে।


ইতি,

আলিশা কারদার।


হানিনের মুখ ধপধপে সাদা হয়ে গিয়েছিল আর ঠোঁট দুটো বেগুনি। চোখের মণি একদম স্থির হয়ে গিয়েছিল। কাঁপতে থাকা হাত দুটো কাগজের ওপর চেপে বসেছিল। সে একদম অসাড় হয়ে বসে বারবার এই শব্দগুলো পড়ছিল। কেউ যেন ওর ঘাড় ধরে ওকে ওর নিজের বুদ্ধিমত্তা আর যোগ্যতার অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে টেনে বের করে বাস্তবের আলো ঝলমলে ঘরে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল, আর ওই ঘরের চারধারে কেবল আয়না ছিল এবং তাতে ভেসে ওঠা সাদা-কালো প্রতিবিম্ব ওর অস্তিত্বকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিচ্ছিল।


বাইরে থেকে আসতে থাকা নুদরাত, উসামা, টিভি—সবার আওয়াজ ওর কাছে অর্থহীন হয়ে গিয়েছিল। সে যেন লবণের একটা মূর্তি হয়ে ওই কাগজটা হাতে নিয়ে মেঝেতে বসে রইল। এসএসসি-র ফলাফল কার্ড, সেরা ছাত্রীর সার্টিফিকেট, অমুক-তমুক পুরস্কার সব ওর চারপাশেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল আর সে ওই সব মিথ্যে কাগজের স্তূপের মাঝে একটা সত্যির কাগজ আঁকড়ে ধরে বসে ছিল।


জীবনে প্রথমবার হানিন জুলফিকার ইউসুফ খান নিজেকে একটা প্রশ্ন করল; ঠিক সেটাই, যা ওয়ারিস মামুর খুনের রাতে ফারিস তাকে হোটেলে জিজ্ঞেস করেছিল, যখন সে ওই নাকফুলটার উল্লেখ করেছিল:


"তুমি কে হানিন?"


আর চারপাশের দেয়ালের আয়নাগুলো যেন বলছিল—


"একজন দুর্বলের ওপর চড়াও হওয়া ধ্বংসকারী... একজন নিরুপায় মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হানিন!"



🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼


Khud se bhi koi rabt nahin mera in dinon, tujh se talluqat ki tajdeed kya karoon



[আজকাল নিজের সাথেই আমার কোনো যোগাযোগ নেই, তোমার সাথে সম্পর্কের নবায়ন আর কীভাবে করব?]


পাবলিক prosecution অফিসের জানালা দিয়ে শীতের মিষ্টি রোদ ছিটকে আসছিল, টেবিলে রাখা ফাইলগুলোকে চকচকে করে তুলছিল। কিন্তু এই মনোরম আবহাওয়াকে একদম উপেক্ষা করে জুমার অত্যন্ত গম্ভীর মুখে বাসিরত সাহেবকে এমন একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছিল, যা ওনাকে বেশ বিভ্রান্তিতে ফেলে দিয়েছিল।


"আপনি কি এই মামলায় অন্য কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে যাচাই করেছিলেন?"


"জুমার, এই তো এখানে সব ফাইল রাখা আছে।" উনি যেন হাল ছেড়ে দিয়ে হাত তুলে দিলেন। "আর তুমি যেদিন বলবে, আমি এই মামলাটা তোমাকে হ্যান্ডওভার করতে প্রস্তুত আছি, ওপর মহলে আমি নিজে কথা বলে নেব।"


"আমাকে এই মামলার ফাইল দেখতেও হবে না, আর এই মামলাটা আমার চাইও না।" সে কোনো অপছন্দের জিনিস থেকে দূরে সরে যাওয়ার মতো করে গা বাঁচিয়ে নিল। "আমি শুধু এতটুকু জানতে চাই যে, আপনি কি এই মামলাটার তদন্ত ঠিক সেভাবেই করেছিলেন, যেভাবে আপনার করা উচিত ছিল?"


"তোমার কি ফারিসের খুনি হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ আছে?" উনি বেশ অবাক হলেন।


"না, কিন্তু আমার ব্যক্তিগত মতামত দিয়ে কিছু যায় আসে না। আমি এই মামলার prosecutor নই, আপনি। আমি একজন victim, আমি মুদ্রার ওপিঠ দেখতে চাই না, কিন্তু আপনাকে তো প্রতিটা দিক দেখতেই হবে। আমি এটাই জিজ্ঞেস করছি—আপনি কি অন্য কোনো suspect-কে যাচাই করেছিলেন?"


"অবশ্যই আমি করেছিলাম। প্রতিটা মানুষকে, যার এই মামলার সাথে বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক ছিল।" উনি আবার কোনো একটা ফাইল তুলতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু জুমার হাত তুলে ওনাকে থামিয়ে দিল।


"আমাকে কোনো ফাইল দেখতে হবে না, আমি নিজেকে এই মামলা থেকে পুরোপুরি আলাদা করে নিয়েছি। আমাকে শুধু মুখে মুখে বলুন, আপনি কি এমন কোনো কিছু পেয়েছিলেন যা ফারিসকে নির্দোষ প্রমাণ করে?" কথাটা বলা ওর জন্য কতটা যন্ত্রণাদায়ক ছিল, তাও ওকে বলতে হলো।


"না।" উনি মাথা নাড়লেন। "কোনো কিছুই অন্য কোনো ব্যক্তির দিকে ইঙ্গিত করছিল না।"


সে কয়েক মুহূর্ত ঠোঁট কামড়ে ওনার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল।


"আপনি কি হাশিম কারদারকে যাচাই করেছিলেন?" ঘরে কয়েক সেকেন্ডের জন্য নিস্তব্ধতা নেমে এল। ঠিক ওই মুহূর্তেই জুমারের ফোন বেজে উঠল। হানিনের আম্মুর নম্বর ছিল। সে তাড়াহুড়ো করে কলটা তুলল।


"ফুপ্পু?" ওপাশ থেকে হানিনের গলা ভেসে এল।


"হানিন, আমি একটু ব্যস্ত আছি, একটু পরে কল করছি।" এটুকু বলেই সে বাসিরাত সাহেবের দিকে তাকাল। ওনার থেকে যা আশা করেছিল, উনি তার উল্টো কথা বললেন।


"ও সেই প্রথম দিকের মানুষদের মধ্যে একজন ছিল, যাদের আমি যাচাই করেছিলাম। কারণ ফারিসের জোর দাবি ছিল যে, এটা ওয়ারিসের খুনকে ধামাচাপা দেওয়ার একটা চক্রান্ত। তো হতে পারে ওয়ারিস গাজীর কাছে হাশিমের এমন কোনো মামলা ছিল, যা লুকানোর জন্য হাশিম ওকে খুন করিয়েছে।" তারপর উনি একটা ফাইল খুললেন আর সেটার ভেতরে রাখা একটা ফটোকপি পেজের দিকে ইশারা করলেন। জুমারের দৃষ্টি সেটার ওপর ঝুঁকে পড়ল।


"এটা ওই সমস্ত মামলার তালিকা যা ওয়ারিস গাজীর কাছে ছিল। এগুলোর মধ্যে হাশিম বা ওর বাবার কোনো মামলা জড়িত নেই।"


জুমার কয়েক মুহূর্তের জন্য চুপ হয়ে গেল। সে অনবরত কিছু একটা ভাবছিল।


"আমরা সবাই জানি বাসিরাত সাহেব যে হাশিম কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত। এমন কি হতে পারে যে ওর বিরুদ্ধে NAB-এ একটা মামলাও নেই?"


"তুমি ভুল বুঝেছ। গাজীর কাছে ওর মামলা ছিল না, কিন্তু অন্য আঠারোজন কর্মকর্তার কাছে ওর ডজন ডজন মামলা তদন্তের আওতায় আছে।"


"ওহ!" জুমারের ভেতরের টানটান স্নায়ুগুলো কিছুটা শিথিল হলো।


"তো আমি ওয়ারিসের বর্তমান মামলাগুলোর সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের যাচাই করেছি। কারও বিরুদ্ধে কিছুই পাওয়া যায়নি। আমি ওই সমস্ত কর্মকর্তার সাথেও একান্তে কথা বলেছি যারা হাশিমের মামলাগুলো পরিচালনা করছে, আর আমি জানতে পেরেছি যে হাশিম বা ওর পরিবার কখনো পরোক্ষভাবেও এই মানুষদের কোনো হুমকি দেয়নি। সবাই জানে NAB-এর মামলাগুলোর শেষ পর্যন্ত কিছুই হয় না। আর ও এদের ভয় দেখিয়ে বা ঘুষ দিয়ে মুখ বন্ধ করায় না। বরং এদের আদালতে টেনে এনে বেশ দাম্ভিকতার সাথে নিজের পক্ষে লড়ে এদের হয়রানি করে রাখে। যদি হাশিমের কোনো মামলা ওয়ারিসের কাছে থাকত, তবে আমি ধরে নিতাম যে হয়তো ওয়ারিস এমন কোনো তথ্য জেনে ফেলেছিল যা হাশিমের জন্য বিপজ্জনক হতে পারত, কিন্তু ওর তো কোনো খাতা-পত্রই ওয়ারিসের দিকে খোলে না।"


জুমার ফাইলটা বন্ধ করে দূরে সরিয়ে দিল। ওর মন একদম দমে গিয়েছিল।


"জুমার... ফারিস গাজী দুটো খুন করেছে, এই কথাটা সে নিজে তোমাকে বলেছিল। ও জানত না যে তুমি বেঁচে যাবে আর সবাইকে সব বলে দেবে, এই জন্যই—"


"কিন্তু ও তো আমাকে হাসপাতালে দেখতে আসছিল, আমার বক্তব্য দেওয়ার আগে। ও আমাকে আবার মারার চেষ্টা কেন করল না?" কে জানে কেন, সে ফারিসের পক্ষে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করছিল।


"ততখানি নিরাপত্তা আর পুলিশ মোতায়েন থাকার কারণে ও এমন চেষ্টা করার বোকামি কীভাবে করতে পারত?" উনি উল্টো অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন। "তোমার কি এখন ওকে নির্দোষ মনে হচ্ছে?"


"এটাই তো মূল সমস্যা। আমার চোখে ও অপরাধী, আর আমি চাইলেও এমন কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না যা ওকে এই অপরাধগুলো থেকে মুক্ত করে দেবে।" সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়াল।


হানিন ওই কাগজের স্তূপের মাঝে ঠায় বসে মোবাইলে নম্বর ডায়াল করে যাচ্ছিল। প্রথমে দ্বিধা নিয়ে, তারপর ছটফটানি নিয়ে, আর এখন এক চরম ব্যাকুলতায় বারবার জুমারকে কল করছিল। চোখ দিয়ে ওর জল গড়িয়ে পড়ছিল। ওর মনে হচ্ছিল সে যেন কয়েক বছর পেছনে চলে গেছে, যখন ছাদের ওপর অন্ধকারে বসে জুমার খুব নরম গলায় সায়াম আর ওকে জিনের গল্প শুনিয়েছিল। তখন ওর মনে হয়েছিল, জিনের চেয়েও মানুষ বেশি শক্তিশালী হয়, আর ওর জন্য সেই মানুষটা ছিল জুমার—যে ওর প্রতিটা সমস্যা সমাধান করে দিতে পারত। এখনও ওর সেটাই মনে হচ্ছিল। মাঝখানের মাস আর বছরগুলোর সব তিক্ততা যেন কোথাও হারিয়ে গিয়েছিল।


শুধু জুমারই একজন ছিল, যাকে সে নিজের সমস্যাটা বলতে পারত। আর জুমার সপ্তম বারের মাথায় কলটা তুলে শুধু এতটুকু বলল:


"হানিন, আমি ব্যস্ত আছি, তোমাকে একটু পরে কল করছি।" আর সে একরাশ নীরব অশ্রু নিয়ে ফোনটা হাতে ধরে ওভাবেই বসে রইল। বেশ অনেকক্ষণ পর ফোনটা বেজে উঠল। সে দেখল জুমারের নম্বর স্ক্রিনে ভাসছে। ওর চোখে এক অভিমানী রাগ নেমে এল, হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ রগড়ে সে কলটা তুলল।


"হ্যাঁ হানিন, সরি আমি ওই সময়—" জুমার নরম গলায় কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু হানিন রুক্ষভাবে ওর কথা কেটে দিল।



"সরি আমারই বলা উচিত, ভুল করে কল করে ফেলেছিলাম। অন্য কাউকে ট্রাই করছিলাম। বাই।"


আর সে ফোনটা রেখে দিল। চোখের জল আবার বইতে লাগল। এতগুলো বছর পর সে প্রথমবার জুমারকে ডেকেছিল, কিন্তু সে ব্যস্ত ছিল। ওর ব্যস্ততা কি হানিনের এই ভেজা, রুদ্ধ কণ্ঠস্বরের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল? ওর মনটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। জুমারের আবার কল আসতে লাগল, কিন্তু হানিন মোবাইলটা বন্ধ করে দিল।


আলিশা ঠিকই বলেছিল, সে আজ হোক বা কাল এমন কোনো গোনাহ অবশ্যই করবে যার কাফফারা তাকে পুরো জীবন ধরে দিতে হবে। শুধু আলিশা এটা জানত না যে হানিন ওই গোনাহটা কয়েক মাস আগেই করে বসে আছে।


🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼



Hijr ki raat kaatne wale... Kya karega agar sehar na hui



[বিরহের রাত পার করতে থাকা মানুষ... তুই কী করবি যদি সকালটাই আর না হয়?]


হানিনের ওই অধরা, না-বলা কলটা জুমারের মস্তিষ্কে জট পাকিয়ে গিয়েছিল। সেই সকালে শুনানির সময় শেষ হওয়া মাত্রই আদালতকক্ষ থেকে বের হয়ে যাওয়ার বদলে সে নিজের চেয়ারেই বসে রইল আর আব্বাকে কল করতে লাগল। আজ রোদ ওঠেনি, আর ঠাণ্ডা এজলাসে সকাল বেলাতেও বাতি জ্বলছিল। বিচারক সাহেব নিজের চেম্বারে ফিরে যাচ্ছিলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা আহমেদ শাফি নামের ছেলেটাকে ফেরত নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হাশিম আজকেও আসেনি আর সবার সময়টাই শুধু নষ্ট হয়েছিল। সে চারপাশটায় চোখ বোলাতে বোলাতে আব্বার ফোনে রিং হওয়ার আওয়াজ শুনছিল।


"আপনি জিজ্ঞেস করেননি ওর থেকে?" ওনার সালাম শোনা মাত্রই সে ঘাড় নিচু করে খুব ধীরে গলায় জিজ্ঞেস করল।


"আমি কল করেছিলাম, ও তাড়াহুড়োর মধ্যে ছিল। বলছিল ভুল করে তোমাকে কল করে ফেলেছিল। তুমি চিন্তা কোরো না, কোনো গুরুতর ব্যাপার না।"


"উঁহু!" জুমার মাথা নাড়ল। "কোনো একটা ব্যাপার তো ছিল। ও ঠিক ছিল না। আপনি আবার জিজ্ঞেস করার চেষ্টা করুন।"


"তুমি নিজে ওর বাসায় চলে যাও।" আর আব্বার কথা সবসময় এখানেই এসে শেষ হতো। জুমার "থাকুক আব্বা" বলে কলটা কেটে দিল, তখনই বুঝতে পারল যে সাদা সালোয়ার-কামিজ পরা কেউ একজন এসে ওর সামনে দাঁড়িয়েছে। চমকে উঠে মাথা তুলতেই দেখল ওটা আহমদ ছিল, সাথে পুলিশও ছিল। জুমার এদিক-ওদিক তাকাল, ঘরটা খালি হয়ে আসছিল।


"ম্যাম!" সে একটু ইতস্তত করে বেশ নার্ভাসলি ইংরেজিতে বলতে লাগল, "আমাকে আপনার সাথে কথা বলতে হবে।"


"আপনার উকিল ছাড়া আপনার আমার সাথে কথা বলা উচিত নয়।" নরম গলায় বলতে বলতে সে উঠল এবং পার্সটা কাঁধে ঝোলাল।


"Prosecutor বাসিরাত কোথায়? আমাকে ওনার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে হবে।" এটুকু বলে সে আবার পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধ করল যাতে কয়েকটা মুহূর্ত ওকে আরও কথা বলতে দেওয়া হয়।


"উনি এক সপ্তাহের ছুটিতে গেছেন।" সে মোবাইলটা পার্সে পুরে চলে যাওয়ার জন্য ঘুরল।


"আমাকে গাজী সম্পর্কে কিছু বলতে হবে। ফারিস গাজী... ও খারাপ কিছু একটা করতে যাচ্ছে।"


জুমারের পা দুটো যেন জমে গেল। সে আস্তে করে ঘাড় ঘোরাল। চোখ কুঁচকে একরাশ বিস্ময় নিয়ে ওর দিকে তাকাল।


"কী?"


"প্রথমে আপনি প্রতিশ্রুতি করুন যে কখনো এটা প্রকাশ করবেন না যে আপনি আমার থেকে এটা জানতে পেরেছেন, তা না হলে ফারিস আমাকে মেরেই ফেলবে।" বেশ উদ্বেগ নিয়ে বলতে বলতে সে একটু সামনে ঝুঁকল।


"আমি শুনছি।" জুমার খুব মনোযোগ দিয়ে ওকে দেখতে লাগল।


"ও কিছু একটা পরিকল্পনা করেছে। আদালতের ওপর ওর আর কোনো আশা নেই, তাই ও জেলে কিছু মানুষের ওপর প্রতিশোধ নিতে যাচ্ছে। ও কিছু সঙ্গীর সাথে মিলে জেলে দাঙ্গা শুরু করতে যাচ্ছে। আর এই দাঙ্গায় কিছু মানুষ নিজের জীবনও হারাবে।"


"ফারিস নিজে কি এই কথা বলেছে?"


"জি। এটা ওই সমস্ত বিস্তারিত বিবরণ যা আমি জানতে পেরেছি। ও আমাকেও এতে জড়াতে চায় কিন্তু আমি এখনও ওকে চূড়ান্ত উত্তর দিইনি।" সাথে সাথেই একটা দুমড়ানো-মুচড়ানো কাগজ ও জুমারের দিকে বাড়িয়ে দিল। জুমার কাগজটা ধরে সন্ধানী দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকাল।


"আর আপনি আমাকে এটা কেন বলছেন?"


"আমার পুলিশের ওপর বিশ্বাস নেই। কোনো উকিলকে বলাটা আমার কাছে বেশি ভালো মনে হয়েছে। আপনি ওকে হাতেনাতে ধরা খাওয়াতে পারেন। এবার আমার যাওয়া উচিত।" ওর ভেতরের অস্থিরতা যেন শেষ হলো। সে একটা স্বস্তির শ্বাস ফেলে পুলিশদের সাথে ঘুরে চলে গেল। জুমার কাগজটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল, আর এক গভীর ভাবনায় ডুবে গিয়ে সেই দিকে তাকিয়ে রইল যেদিক দিয়ে সে চলে গেছে।


সে যখন নিজের হাজতের কুঠুরিতে ফিরে এল, ততক্ষণে বিকেল নেমে এসেছে। সিপাই শলাকার দরজাটা খুলে দিল, সে ভেতরে আসতেই দরজা আবার তালা দিয়ে দেওয়া হলো। আহমদ এক এক পা ফেলে দেয়ালের কাছে এল আর তারপর মেঝেতে উবু হয়ে বসল।


ফারিস কয়েক কদম দূরে ঠিক ওভাবেই বসে ছিল। আহমদ কাছে আসতেই সে খুব খুঁটিয়ে ওর মুখটা পর্যবেক্ষণ করল।


"কোথায় ছিলে?" ঘাড় ঘুরিয়ে ওকে দেখল, যে কাছে বসে নিজের হাঁটুর দিকে তাকিয়ে ছিল।


"আদালতে।"


"জানি। কিন্তু... অন্য কিছুও হয়েছে নাকি?" সে খুব গভীরভাবে আহমেদের মুখের অভিব্যক্তি দেখছিল।


"সেটাই, যা হওয়া উচিত ছিল।"


"এবার মুখটাও খোলো।" ফারিস কিছুটা বিরক্ত হলো।


আহমেদ আস্তে করে ঘাড় ঘুরিয়ে ওর দিকে তাকাল। "আমি ওনাকে বলে দিয়েছি যে আপনি জেলে দাঙ্গা শুরু করতে যাচ্ছেন।"


কয়েক মুহূর্তের জন্য কুঠুরিতে পিনপতন নীরবতা নেমে এল। পুরো পরিবেশটা ভারী হয়ে উঠল।


"আর? সে কি বিশ্বাস করে নিয়েছে?" ফারিসের জিজ্ঞেস করায় আহমেদ হাসল।


"একদম প্রতিটি হরফ!" আর সে ফারিসের হাতে নিজের হাত দিয়ে তালি মারল। দুজনে হালকা হেসে দিল। এটা ওই হাতে গোনা কয়েকটা বারের মধ্যে একটা ছিল, যখন আহমেদ ওকে হাসতে দেখেছিল।


"ভালো!" ফারিস আবার গম্ভীর হয়ে পকেট থেকে ওই দুমড়ানো-মুচড়ানো কাগজটা বের করে সামনে মেলল। তারপর বাইরে তাকাল। পুলিশরা বেশ দূরে ছিল। সে খুব নিচু গলায় বলতে লাগল:


"বৃহস্পতিবারের রাতটা হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের রাত। ও যদি বিশ্বাস করে নেয় যে আমরা দাঙ্গা শুরু করতে যাচ্ছি, তবে ওই লোকেরা জেলের উত্তরাংশে—" মানচিত্রের একটা জায়গায় আঙুল রাখল। "—ওদের শক্তি তিন গুণ বাড়িয়ে দেবে। এমন অবস্থায় দক্ষিণ-পূর্ব দেয়ালে নিরাপত্তা কমে যাবে। আমরা কোনো দাঙ্গা করব না, আমরা ওই দিকে শুধু আগুন লাগিয়ে দেব। এটা হবে আমাদের diversion, আর এভাবে আমরা দক্ষিণ-পূর্ব দিক দিয়ে বের হয়ে যাব।"


"জানি। আমরা প্রায় তিনশো বার আমাদের পরিকল্পনাটা সংশোধন করেছি। এখন তো আমি নিজেকে অর্ধেক জেলের বাইরেই অনুভব করতে শুরু করেছি।" সে থামল। ফারিস, যে কাগজটা আবার ভাঁজ করছিল, কিছুটা চমকে উঠল।


"এক মিনিট। তোমার মুখে আরও কিছু একটা লেখা আছে।" সে খুব গভীরভাবে আহমেদকে দেখল। "কোনো সমস্যা আছে নাকি?"


"সে... আসলে..." সে আটকে গেল। তারপর উঠে আরও কয়েক কদম দূরে গিয়ে বসল (যাতে পরবর্তী কথাটা শুনে ফারিস গাজী ওর কলার চেপে না ধরে) আর কান চুলকাতে চুলকাতে খুব সরলভাবে বলল, "Prosecutor বাসিরাত শান্তিতে ছুটিতে আছেন।" ফারিস এক বিরাট ধাক্কা খেল।


"তাহলে তুমি এই সব বকবক কার সাথে করে এসেছ? আমি বলেছিলাম না পুলিশকে জড়াবে না!"


"সে... জুমারকে বলেছি।"


আর ফারিসের যেন তেরো নদী সাত সমুদ্রের ঢেউ মাথায় চড়ে বসল। "কী বলছিস এসব? আমি বারণ করেছিলাম না যে—" সে রাগে চিৎকার করতে যাচ্ছিল কিন্তু গার্ডরা কাছে আসছিল, তাই নিজের ক্ষোভ মেশানো গলাটা একটু নামাল। "ওকে কেন বলতে গেলে?"


"আপনি যদি নিজের রাগটা একপাশে রেখে আমার কথাটা শোনেন তো খুব ভালো হয়। পুরো আদালতে সবচেয়ে বেশি আপনাকে শাস্তি কে দেওয়াতে চায়? স্পষ্টতই জুমার। বাসিরাত সাহেব হয়তো আমার কথায় কানই দিতেন না, কিন্তু ও দেবে। আপনাকে শাস্তি দেওয়ানোর এর চেয়ে ভালো সুযোগ ও আর পাবে না। আর তা ছাড়া বাসিরত সাহেব তো ছিলেনই না, এক সপ্তাহ পর আসবেন। আর আমি এক সপ্তাহ পর ওনার সাথে দেখা করব কীভাবে? যদি এখন দেখা করার অনুরোধ করি, তবে ওদের সন্দেহ হবে না কি যে এত খোলামেলাভাবে কেন করছি? আমার কাছে শুধু আজকের দিনটাই ছিল আর আমি সেটাই করেছি যা ভালো মনে হয়েছে।"


"ওকে ব্যবহার করে আমি জেল ভাঙতে চাই না।" সে চরম বিরক্তি নিয়ে বলে উঠল। "এভাবে তো ও সারাজীবন ভাববে যে আমিই অপরাধী ছিলাম।"


"যখন আপনি জেল ভাঙবেন, তখন সবাই এটাই ভাববে। তাহলে সমস্যাটা কোথায়?"


আর ফারিস চুপ হয়ে গেল। দুহাতে নিজের মাথাটা চেপে ধরল। চোখ বন্ধ করে রগ মোচড়াতে লাগল।


"এটা ঠিক নয়। আমি ওকে ব্যবহার করতে চাই না।"


"কেন?" দূরে বসে থাকা আহমেদ নিজের চোখের মণি কুঁচকে ওর মুখটা দেখতে লাগল। "আপনাদের দুজনের মধ্যে কি কিছু ছিল নাকি?"


সে চমকে উঠে মাথা তুলল। চোখে একরাশ বিরক্তি ফুটে উঠল। "একদমই না!"



"আচ্ছা, সরি, আমার এমনিই মনে হয়েছিল।"


"কী মনে হয়েছিল?" ফারিসের যেন দম আটকে আসছিল।



না... আসলে এত কিছু হয়ে যাওয়ার পর, এত বছর কেটে যাওয়ার পর, আপনার এত ঘৃণা করার পরও, এবং আপনার বিরুদ্ধে সব জায়গায় বক্তব্য দেওয়ার পরেও, যখন আপনি ওর নাম শোনেন তখন... আপনার মুখে অন্য রকম কিছু একটা ভেসে ওঠে। আর তা ছাড়া জুমারও... সরি, জুমারও এখনও আপনাকে 'ফারিস' বলেই ডাকে। সে সবকিছুর পরেও First Name Terms শেষ করেনি।


"কোনো মেয়ের নাম ওভাবে নেয় না, সারাক্ষণ অর্থহীন বকবক কোরো না। মাথাটা একদম গরম হয়ে আছে আমার এখন।"


সে রুক্ষভাবে ধমকে মুখ ঘুরিয়ে নিল। আহমেদ এখন আর ওর মুখ দেখতে পাচ্ছিল না, তাই সে নিজের কাঁধ ঝাঁকিয়ে চুপ করে গেল।


"আচ্ছা সরি, ভুল করে বলে ফেলেছি। যাইহোক।" তারপর সে আরাম করে শুয়ে পড়ল, হাত দুটো মাথার নিচে বালিশের মতো রাখল। "আপনি বাইরে গিয়ে কী করবেন? আমি তো আমেরিকা পালিয়ে যাব। এখানে তো আর চাকরি করতে পারব না..." ও একনাগাড়ে বলেই যাচ্ছিল আর ফারিস মুখ ফিরিয়ে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে ছিল।





চলবে,,,,,,

Comments

Popular posts from this blog

মুসহাফ - পর্ব: ০৩ (অনুবাদে: রেজওয়ান হোসেন মাসুম) (ফারিস্তে_ইব্রাহিম) (মেহমিল_ইব্রাহিম) (হুমায়ুন_দাউদ) (ফাওয়াদ_কারীম)

মুসহাফ - পর্ব: ০৪ (অনুবাদে: রেজওয়ান হোসেন মাসুম) (ফারিস্তে_ইব্রাহিম) (মেহমিল_ইব্রাহিম) (হুমায়ুন_দাউদ) (ফাওয়াদ_কারীম)

মুসহাফ - পর্ব: ১৩ (অনুবাদে: রেজওয়ান হোসেন মাসুম) (ফারিস্তে_ইব্রাহিম) (মেহমিল_ইব্রাহিম) (হুমায়ুন_দাউদ) (ফাওয়াদ_কারীম)