নামাল-(Namal) অধ্যায়:০৪ পর্ব ১৮, #ফারিস_গাজী (Faris Ghazi) #জুমার_ইউসুফ (Zumar Yousuf)


 

#নামাল-(Namal)


#ফারিস_গাজী (Faris Ghazi) 

 

#জুমার_ইউসুফ (Zumar Yousuf) 



অধ্যায়:০৪


পর্ব ১৮:-


Ab na wo mein hoon, na tu hai, na wo maazi hai Faraz... jaise do saaye tamanna ke saraabon mein milein)


[এখন না আমি সেই আগের মতো আছি, না তুমি, আর না আছে সেই অতীত, ফারাজ... যেন মরীচিকার বুকে দুটি আকাঙ্ক্ষার ছায়া এসে একবিন্দুতে মিলেছে।]


গরম গরম পকোড়ার সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। জুমার তার নিজের চেনা সোফাটায় বসে ছিল। সায়াম কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই তার পায়ের কাছে কার্পেটে বসে খেলনা জোড়া লাগাচ্ছিল। হানিন বেশ ফুরফুরে মেজাজে প্লেট-বাসন সাজাচ্ছিল। সে জুমারের দিকে তাকালেই লাজুক মুখে হাসছিল। জুমারও পাল্টা হাসছিল।


ফারিস এইমাত্র বাড়ি ফিরল। এসে একটা সাধারণ ‘সালাম’ ছাড়া আর কিছুই বলল না। সালাম দেওয়ার মাঝেও সে একটু থেমেছিল, কারণ জুমারের পরনের long top-টা দেখে সে থমকে দাঁড়িয়েছিল। তারপর রিমোট তুলে নিয়ে চ্যানেল বদলাতে লাগল। অফিস থেকে সরাসরি আসায় তার কোট-টাই সব খোলা ছিল।


“এটা বেশ সুন্দর লাগছে তো!” নুদরাত কিচেন থেকে লাউঞ্জে আসার সময় সোফার ওপর থেকে একটা জিনিস তোলার ফাঁকে জুমারের বদলে যাওয়া long top-টা লক্ষ্য করলেন। হানিন বেশ চড়া গলায় মন্তব্য করতে করতে প্লেটগুলো গুছিয়ে রাখল।


“এই gift-টা ফুপ্পুকে ওনার এক পুরনো student দিয়েছে। সাথে একটা note-ও ছিল, আমিও ওটা পড়েছি। By the way...”


“ফুপ্পু! আপনি কি ওনার হাতের লেখা চিনতে পারেননি? মামু, নিন না।” সে প্লেটটা মামুর দিকে বাড়িয়ে দিল। ফারিস কোনো রকম অভিব্যক্তি না দেখিয়ে বেশ গম্ভীর মুখে প্লেটটা নিয়ে পাশে রেখে দিল। পকোড়াগুলো তখনও কড়াইতে ভাজা হচ্ছিল।


“না রে, এত paper work করতে হয় যে আলাদা করে হাতের লেখা চেনা মুশকিল।” জুমার খুব শান্তভাবে নিচু গলায় নুদরাতকে বলছিল। নুদরাত আবারও কিচেনে ফিরে গেলে হানিনও ওনার পেছন পেছন চলে গেল এবং কিচেন থেকে লাউঞ্জে খোলার দরজাটা টেনে বন্ধ করে দিল। কড়াইতে পকোড়া ছাড়তে ছাড়তে নুদরাত ঘুরে ওর দিকে তাকালেন।


“দরজা বন্ধ করলি কেন?”


(যাতে হিরো-হিরোইন নিজেদের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে একটু আলোচনা করার সুযোগ পায় আর আপনি যেন মাঝখান থেকে এন্ট্রি না মারেন!)


“ধোঁয়া সব লাউঞ্জে যাচ্ছিল।” Exhaust fan-টা চালু করে জামার হাতা গুটিয়ে সে চাটনি বানাতে দাঁড়িয়ে গেল।


“আজ তুমি ওই পচা কম্পিউটার আর আলিশাকে ছেড়ে রান্নাঘরে সময় দিচ্ছ, দেখে অবাক হচ্ছি!” মায়ের এই হালকা খোঁচাটুকু গায়ে না মেখে সে মাথা নিচু করে হাসতে হাসতে চাটনি পিষতে লাগল।


লাউঞ্জে তখন টিভির আওয়াজ আর সায়ামের নিজের মনে একা একা কথা বলার শব্দ আসছিল।


জুমার সোফায় আরাম করে বসে ফারিসের দিকে তাকাল।


“আপনার সাথে আমার একটা বিষয়ে কথা ছিল, ফারিস!” কিছুটা ইতস্তত করে সে শুরু করল। ফারিস হাতের রিমোটটা রেখে ওর দিকে ঘুরল এবং গম্ভীর চোখে তাকাল।


“কী ব্যাপারে?”


“একটা case-এর সিলসিলায়।”


সে কিছুটা চমকে উঠল। সে ভেবেছিল হয়তো... উঁহু, এটা অন্য কোনো ব্যাপার ছিল।


“আপনি তো জানেনই, অনেক সময় একজন আইনজীবী হিসেবে আমরা মামলা লড়ি আর জজ এমন একটা রায় শুনিয়ে দেন, যা অপর পক্ষের কাছে মোটেও সুখকর হয় না।” সে বেশ সাবধানে শব্দগুলো চয়ন করে বলল। ফারিস মাথা নেড়ে পুরো বিষয়টা এক নিমেষে বুঝে নিল।


“তার মানে আপনার কারণে কারো সাজা হয়ে গেছে। হুম, তারপর?”


জুমার সামান্য ক্ষণ চুপ করে রইল। “আমার একটা case-এর রায় ঠিক এইভাবেই এসেছিল। অপরাধীর ভাই এই রায়ে মোটেও খুশি ছিল না এবং সেটার বহিঃপ্রকাশও সে করেছে।”


“তার মানে সে আপনাকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে? হুম, আগে বলুন।”


“জি... আর আপনি তো জানেনই আমাদের পরিবারে...”


“আপনি ঝামেলাটা বাড়ি পর্যন্ত টানতে চান না, বাইরে বাইরেই মিটিয়ে ফেলতে চান।” এবার ফারিস ওনার বাক্যটা শেষ করতেই দিল না। জুমার একটা গভীর শ্বাস নিল।


“আমি চাই এই বিষয়টা আমি নিজেই...” সে মাঝপথে থেমে গেল। কথা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে বলার কোনো ফায়দা ছিল না। ওই লোকটা কোনো স্কুলের টিচার ছিল না, যাকে ভয় দেখিয়ে বা মারধর করে পিছু হঠানো যাবে।


“আমি যদি আপনার department-এ ওর বিরুদ্ধে একটা complaint file করি, তবে ওই লোকের হেনস্তা থামানোর আইনি প্রক্রিয়াটা ঠিক কী হবে?”


“কোনো ব্যাপারই না।” সে সোফায় হেলান দিয়ে বসল। কানের লতি চুলকাতে চুলকাতে বেশ অবহেলার সাথে কাঁধ ঝাঁকাল। “আমি Director-এর সাথে কথা বলে নেব। আমাদের কর্মী ওকে তুলে নিয়ে আসবে। দু-চারটে থাপ্পড় পড়লেই ওর মাথা একদম ঠিক হয়ে যাবে।”


জুমারের চোখ দুটো অবিশ্বাস্যভাবে বড় বড় হয়ে গেল। সে দ্রুত নেতিবাচকভাবে মাথা নাড়ল।


“না, please! আমি মারধোরে একদম বিশ্বাস করি না। এই সমস্যাটা আলোচনার মাধ্যমেও সমাধান করা সম্ভব। প্রত্যেকের ভেতরেই একটা ভালো দিক থাকে, আমাদের শুধু সেটাকে জাগিয়ে তুলতে হয়।”


“আপনি শুধু দুই ঘণ্টার জন্য ওকে আমার ছেলেদের হাতে ছেড়ে দিন। ভেতরের সব ভালো দিক একেবারে বাইরে বেরিয়ে আসবে।” জুমারের মুখের ভীতি দেখে ফারিস যেন কোনো অন্যায় করে ফেলেছে এমন ভাব করল। ও এই প্রসঙ্গটাই ভুলে যেতে বলার আগেই সে কিছুটা নরম সুরে বলল—


“ঠিক আছে, কথা বলে দেখা যাবে তাহলে। আমি নিজে ওর সাথে দেখা করব। একজন পুরুষের সাথে কথা বলার ধরণটা অন্যরকম হয়।”


“Okay,” সে মাথা নাড়ল। মনে মনে কিছুটা স্বস্তি পেল। “ওই লোকটা আজকাল রোজ আপিলের চক্করে কোর্টে আসে। আপনি যদি আগামীকাল সকালে একটু আসেন, তবে আমি আপনাকে ওকে দেখিয়ে দেব।”


“Sure!” ফারিস কিছুটা সময় নিয়ে গভীর চোখে ওনার মুখের দিকে তাকাল। “অন্য কোনো সমস্যা?”


“না, শুধু এতোটুকুই ছিল.. thanks!” সে আলতো করে হাসল। ফারিস ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আওয়াজ দিল—


“হানিন, পাকোড়া নিয়ে আসছিস নাকি আমি যাব?”


“না না, আনতে হবে না। আপনি বসুন।” সে ডিশ হাতে নিয়ে বেশ উৎফুল্ল মেজাজে ভেতরে আসতে আসতে বলল। আজ তাকে ভীষণ খুশি দেখাচ্ছিল।


🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼



Khaali haathon ko kabhi ghaur se dekha hai Faraz... kis tarah log lakeeron se nikal jaate hain


[কখনো কি নিজের শূন্য হাতের দিকে গভীর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে দেখেছ, ফারাজ... মানুষ কীভাবে হাতের ভাগ্যরেখা ফাঁকি দিয়ে জীবন থেকে হারিয়ে যায়!]


পাকোড়া খাওয়া শেষ হলো। জুমার চলে গেল। আম্মু নামাজ পড়তে নিজের ঘরে গেলে ফারিস ওনার পেছন পেছন চলে গেল। এখন শুধু হানিন আর অনলাইনে আলিশা ছিল।


“আমার প্রবলেম solved!” সে বেশ চনমনে গলায় খবরটা দিল। আলিশা তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হাসল।


“তা নিজের সাহস দেখালি, নাকি বেশি সাহসী কাউকে খুঁজে নিলি?”


“বেশি সাহসী একজনকে খুঁজে নিয়ে নিজের একটু সাহস সঞ্চয় করলাম।” তারপর হঠাৎ মনে পড়ায় সে সেলফোনটা তুলে দেখাল।


“এই দেখ... এটা আমি gift পেয়েছি।”


“Wow! Brand new?” সে-ও বেশ কৌতূহল নিয়ে স্ক্রিনের দিকে এগিয়ে এল।


“হ্যাঁ, আর আরও অনেক কিছু আছে। আমাদের পরিচিতদের মধ্যে এক ধনী আঙ্কেল আছেন,” সে কলার ঝাড়ার ভান করে বলল।


“তাই নাকি? তিনি আবার কে?”


“আমার আঙ্কেলের আঙ্কেল। এই জটিল আত্মীয়তার সম্পর্ক তুমি বুঝবে না। আচ্ছা, আমাকে একটা কথা বলো, তুমি ওই jeweles এর game-টায়...”


হঠাৎ landline-এর ঘণ্টি বেজে ওঠায় তার মেজাজটা কিঞ্চিৎ বিগড়ে গেল। সে এগিয়ে গিয়ে নম্বরটা দেখল—বড়ো আব্বার বাড়ি থেকে ফোন এসেছে। দ্বিতীয়বার রিং হতেই ফোনটা শান্ত হয়ে গেল। হয়তো আম্মু ভেতর থেকে receive করেছেন।


সে নিশ্চিন্ত হয়ে আবার কথা বলতে লাগল। তারপর আচমকা থমকে গেল। জলদি আলিশাকে ‘bye’ বলে রিসিভারটা আলতো করে তুলে কানের কাছে ধরল।


তার অনুমান মতোই ওপাশে বড়ো আম্মু ছিলেন। সে চোখ বড় বড় করে শুনতে লাগল।


“আমি তো আগেই বলেছিলাম জুমার রাজি হবে না। ও তো পরিষ্কার ‘না’ করে দিয়েছে।”


“কিন্তু আমি যদি নিজে ওর সাথে কথা বলে দেখি, হয়তো...” নুদরাতের মনে তখনও একটা ক্ষীণ আশা ছিল।


“আরে ভাই, ও যখন সরাসরি মানা করে দিয়েছে, তখন আর কোনো সুযোগই থাকে না। দেখো, কিছু মনে করো না, কিন্তু ও ওকে ভালো করেই চেনে। ওর বক্তব্য হলো—ছেলেটার মেজাজ বড্ড কড়া আর ভীষণ খিটখিটে, একেবারে wild স্বভাবের। ওর সাথে ও সংসার করবে কীভাবে?”


হানিন রিসিভারটা নামিয়ে রাখল। তার মুখটা একদম ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছিল। রাত বারোটা বেজে গেছে আর সিন্ডেরেলার যে জাদুকরী সওয়ারিতে চেপে সে কল্পনার আকাশে উড়ছিল, তা এক মুহূর্তেই কুৎসিত কুমড়োয় পরিণত হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়েছে। সে একদম নিস্তেজ হয়ে সেখানেই বসে রইল।


নুদরাত সাধারণত extension থেকে অন্য কেউ ফোন তুললে বুঝতে পারতেন, কারণ আওয়াজ কিছুটা হালকা হয়ে যেত। কিন্তু আজ তিনি তা টের পাননি। তিনি বেশ অসহায় চোখে সামনে বসা ফারিসের দিকে তাকালেন, যিনি ওনার মুখের অভিব্যক্তি খুঁটিয়ে পড়ছিলেন। নুদরাত রিসিভারটা cradle-এ রেখে দিলেন।


“ওরা না করে দিয়েছে?”


“আমি জুমারের সাথে নিজে কথা বলব। ও এই ধরনের কথা বলতেই পারে না। ও...”


“কোন ধরনের কথা? বলে দিন, আমি কিছু মনে করব না।”


“এই মেজাজ আর স্বভাবের কঠোরতা নিয়ে। তবে তুমি এই বিষয়টাকে নিজের ego-র ব্যাপার বানিয়ে নিও না। আমাকে আর একবার...”


“না, তার কোনো প্রয়োজন নেই। যখন ‘না’ হয়ে গেছে, তখন অধ্যায় ওখানেই খতম।”


“ফারিস! শুধু একটা বার আমাকে...” সে নেতিবাচকভাবে মাথা নেড়ে উঠে দাঁড়াল।


“আপা, একজন মানুষ সম্মানের সাথে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়, আর যদি সম্মানের সাথে সাড়া না মেলে, তবে গল্প ওখানেই শেষ। আমার বয়স যখন মাত্র দশ বছর, তখন আমার বাবা মারা যান। আত্মীয়স্বজনদের এই নোংরা রাজনীতি দেখতে দেখতেই আমার জীবনটা কেটে গেছে। এই ‘সৎ মা’ বা ‘সৎ ভাই’ শব্দটা আমাদের জীবন থেকে তখনই মুছে গিয়েছিল, যখন আমরা একে অপরকে বুঝতে শুরু করেছিলাম—হয়তো দশ-বারো বছর আগে। নয়তো তার আগে ওয়ারিস ভাই হোন, আপনি হোন কিংবা আপনাদের আত্মীয়রা—সবার চোখেই আমি ছিলাম দ্বিতীয় পক্ষের এক সৎ ছেলে মাত্র, আর আপনাদের মধ্যে কেউই আমাকে পছন্দ করতে পারতেন না। আমি এসব আপনার মন ভাঙার জন্য বলছি না, আপা। এখন আর এই পুরনো কথার কোনো মূল্য নেই। শুধু এটাই বলতে চাই—আমি যদি আপনাদের আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে করতাম, তবে সম্মানের সাথেই করতাম, অন্যথায় নয়। তাই দয়া করে এই বিষয়ে ওনাদের সাথে আর কোনো কথা বলবেন না।”


নুদরাত আলতো করে মাথা নেড়ে সায় দিলেন। তিনি ফারিসের মনের ভেতরের এই কষ্টটুকু পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছিলেন।

🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼


Sitam-gar tum se umeed-e-karam hogi jinhein hogi... humein to dekhna ye hai ke tu zaalim kahaan tak hai)


[হে অত্যাচারী! তোমার কাছে দয়ার আশা যাদের করার তারা করুক... আমাদের তো শুধু এটাই দেখার যে তুমি কতটা নিষ্ঠুর হতে পারো!]


​AC-র বাতাসে অফিসের পরিবেশটা বেশ ঠাণ্ডা ও মনোরম হয়ে উঠেছিল। জুমার কথা শুরু করার আগে সব ফাইল একটার ওপর আরেকটা গুছিয়ে একপাশে সরিয়ে রাখল। তারপর চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে টেবিলের ওপাশে বসা সেই সুদর্শন লোকটার দিকে তাকাল, যে এক পায়ের ওপর আরেক পা তুলে বসে ছিল। লোকটা সামান্য ঘাড় ঝুঁকিয়ে হাতে থাকা মোবাইলে কী যেন টাইপ করছিল। চুলে জেল লাগিয়ে নিখুঁতভাবে পেছনের দিকে সেট করা, ভ্রু দুটো সামান্য কুঁচকানো। সাদি তার কথা বলতে গিয়ে জুমারের মনে যে ধারণা তৈরি করেছিল, তা ছিল একজন অত্যন্ত নম্র ও বিনয়ী মানুষের। কিন্তু এই লোকটাকে জুমারের কাছে সম্পূর্ণ আলাদা মনে হলো।


​"তাহলে আপনিই সাদির ফুপ্পু?" কোনো রকম আবেগ ছাড়াই অত্যন্ত গম্ভীর ও ঠাণ্ডা গলায় সে জিজ্ঞেস করল। তখনও সে টাইপ করে যাচ্ছিল।


​"জি, কারদার সাহেব!" সে নিজের মাথাটা সামান্য নোয়ালো। "সেই হিসেবে আমি আশা করছি যে আপনি কিছুটা professional courtesy দেখাবেন।"


​"আপনার মক্কেল আমার ড্রাইভারকে লুটের চেষ্টা করেছে এবং তারপর তাকে গুলি করেছে।"


​"গুলির ঘটনাটা ভুলবশত ঘটে গেছে," সে অত্যন্ত আত্মনিয়ন্ত্রণের সাথে সংশোধন করল।


​"এবং তারপর সে পুলিশের কাছে নিজের অপরাধও স্বীকার করে নিয়েছে।"


​"জি, যখন সে নিজেই পুলিশকে ডেকেছিল যাতে তারা আহত ড্রাইভারকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারে, তখনই সে স্বীকারোক্তি দিয়েছিল।"


​"আপনি একজন চোর আর খুনির দালালি করছেন?" এখনও ঘাড় ঝুঁকিয়ে দ্রুত হাতে টাইপ করতে করতেই সে বলল।


​"আমি আমার মক্কেলের পক্ষে লড়ছি," সে সামান্য থামল। "আমরা কি এই বিষয়টা মিটমাট করে নিতে পারি?"


​"একবার ভালো করে আমার দিকে তাকান এবং বলুন, আমার কি আপনার ওই দয়ার টাকার (compensation) খুব প্রয়োজন আছে?"


​জুমার মাথা থেকে পা পর্যন্ত তাকে একবার দেখে নিল। হাজার টাকার হেয়ারকাট, আড়াই-তিন লাখ টাকার স্যুট, সমমূল্যের জুতো—ওহ!


​"Professional courtesy, কারদার সাহেব!" সে মনে করিয়ে দিল। হাশিম মোবাইলটা রাখল এবং চোখ তুলে সম্পূর্ণ ভাবলেশহীন চোখে তার দিকে তাকাল।


​"বিবি! আমি আপনাকে একটা favor করব। আপনি আপনার মক্কেলকে কাঠগড়ায় নিয়ে আসুন।"


​"কখনোই না।"


​"আপনি ওকে কাঠগড়ায় এনে জজের সামনে testify করতে দিন। আমার ওর টাকা চাই না, আমার ওর অনুশোচনা আর লজ্জাটা চাই। আপনি এটা করুন, আমি ওর জন্য কম থেকে কম সাজার দাবি করব।"


​সে কয়েক মুহূর্ত গভীর ও চিন্তিত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইল। লোকটা বেশ সিরিয়াস ছিল।


​"কত বছর?" হাশিমের মুখ থেকে যে কটা বছরের কথা বলা হলো, তা জুমারের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল।


​"Okay!" সে সম্মতি জানাল। লোকটা উঠে দাঁড়াল। কোটের বোতাম লাগাল। মৃদু হেসে মাথা সামান্য ঝুঁকিয়ে বাইরে চলে গেল।


​জুমার নিজের মোবাইলটা চেক করল। ফারিসের কোনো কল বা মেসেজ ছিল না। সে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে বসে রইল। তারপর তাকে ফোন করল।


​"আপনি বলেছিলেন যে সকালে আসবেন। আমি অপেক্ষা করছিলাম।"


​সে এক মুহূর্তের জন্য পুরোপুরি চুপ হয়ে গেল। "আমি আসছি।" জুমার আশ্বস্ত হলো। এই লোকটাকে ঠিক আধা ঘণ্টা আগে সে করিডোরের অন্য প্রান্তে অ্যাডভোকেট মসহূদের চেম্বারের ভেতরে চলে যেতে দেখেছিল। লোকটা রোজই আসত। প্রতিবারই ওপাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কোনো না কোনো কড়া কথা শুনিয়ে যেত, কোনো ইঙ্গিতপূর্ণ ইশারা... উফ, সে একদম বিরক্ত হয়ে উঠেছিল।


​বাইরে যাওয়ার জন্য সে দরজা খুলতে গেল, ঠিক সেই মুহূর্তেই ফারিসও বাইরে থেকে দরজা খোলার জন্য হাত বাড়িয়েছিল। তার হাতটা শূন্যেই থমকে রইল। তারপর সে হাতটা নামিয়ে নিল। এক গভীর দৃষ্টিতে জুমারের দিকে তাকাল। তার মুখাবয়বে ফারিসকে আসতে দেখে এক ধরনের স্বস্তি ফুটে উঠেছিল। জুমারের পরনের long top-টা নিচে আরও কিছুটা ঝুলে ছিল।


​"রানা সাহেব আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। আমার দেরি হয়ে যাবে। আপনি নিজে ওর সাথে কথা বলে নেবেন তো, তাই না?" সে নিশ্চিত হতে চাইল।


​আইনজীবীদের চেম্বারের সামনের এই করিডোরটা ছিল একটা বারান্দার মতো, যার অন্য প্রান্ত থেকে নিচের ব্যস্ত বাজার, গাড়ির হর্ন আর রুটিওয়ালার ঠেলাগাড়ি—সবকিছুই স্পষ্ট দেখা যেত। ওরা দুজনে সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিল।


​"হুম। কোথায় সে?" পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ফারিস ঘাড় ঘুরিয়ে এদিক-ওদিক তাকাল। আজ সে জিন্সের ওপর একটা round-neck শার্ট পরে ছিল, যার হাতা কবজি থেকে এক বিঘত ওপরে গোটানো ছিল। সে তার কাজিনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা প্রকৃতির ছিল।


​"ওই যে আরশাদ ফায়াজ, গোঁফওয়ালা লোকটা," জুমার ভ্রু দিয়ে ইশারা করল। লোকটা তখন চেম্বার থেকে বের হচ্ছিল। ফারিস কয়েক মুহূর্ত গম্ভীর চোখে তার দিকে তাকাল। তারপর খুব শান্তভাবে জুমারের দিকে ঘুরল।


​"আপনি যান। আমি নরম সুরে বুঝিয়ে দেব। ও কাল সকালে এসে আপনার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেবে।"


​জুমারের চোখে কিছুটা বিস্ময়, তারপর উদ্বেগ ফুটে উঠল। "কিন্তু ফারিস, আপনি ওকে..."


​"Don't worry. আমি ওকে হাতও ছোঁয়াব না।" সে পকেট থেকে হাত বের করে শূন্যে তুলে দেখাল। জুমার সামান্য হেসে মাথা নেড়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেল।


​ফারিস সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল যতক্ষণ না সে চোখের আড়াল হলো। তারপর সে আরশাদ নামের ওই লোকটার পিছু নিল। লোকটা দুটো প্লাজার মাঝখানের এক জনাকীর্ণ রাস্তা দিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল। ফারিস কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে তার পেছনে হাঁটছিল। যখন মূল রাস্তাটা কাছাকাছি এল, তখন সে আগের মতোই পকেটে হাত গুঁজে, মুখে কিছু একটা চিবোতে চিবোতে নিজের গতি বাড়িয়ে দিল। একসময় সে একেবারে তার মাথার ওপর গিয়ে পৌঁছাল।


​"কী খবর, আরশাদ সাহেব! বাড়ির সবাই ভালো তো?"


​আরশাদ চমকে উঠে ঘাড় ঘোরাল। ফারিস তখন তার পাশাপাশি হাঁটছিল।


​"কে আপনি?"


​"চিনে যাবেন। এত তাড়াহুড়ো কিসের? আসুন এই দিকে," সে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটা ভ্যানের দিকে ইশারা করল। আরশাদ বেশ বিরক্ত মুখে তার দিকে তাকাল।


​"আরে, কে তুমি?"


​"একটু শান্ত হন ভাই সাহেব। এই দিকে আসুন। আপনার সাথে কিছু হিসাব-নিকাশ বাকি আছে।" ওরা ভ্যানের একদম কাছাকাছি চলে এসেছিল। আরশাদকে ওখান থেকেই পেরিয়ে সামনে যেতে হতো, আর সে কিছুটা কড়া কথা বলার জন্য মুখ খুলতেই যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ভ্যানের স্লাইডিং দরজাটা খুলে গেল। দুজন যুবক বাইরে বেরিয়ে এল। একজন কাছে এসে বেশ উৎসাহের সাথে "আসসালামু আলাইকুম" বলে তার কাঁধে হাত রাখল। সিরিঞ্জটা তার হাতের মুঠোতেই ছিল। সুচটা ভেতরে ঢুকে গেল। আরশাদ, যে এই আকস্মিকতায় রেগে গিয়ে সামনের জনকে ধাক্কা দিতে যাচ্ছিল, নিমেষেই পুরোপুরি নিস্তেজ হয়ে গেল। দুজনে তার দুই বাহু ধরে সেই অবশ দেহটাকে ভ্যানের ভেতরে চালান করে দিল। দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল। সবকিছু এত দ্রুত আর নিখুঁতভাবে ঘটল যে আশেপাশের কেউ টেরই পেল না।


​ফারিস ঘুরে সামনের সিটে এসে বসল এবং একটা ড্রয়ারের মতো খোপ খুলল।


​"গাজী! রওনা দেব?" ড্রাইভার যুবকটি জিজ্ঞেস করল।


​"হুম!" সে মাথা নেড়ে সায় দিল। ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট করল। তারপর তার দিকে তাকাল। সে ওই ড্রয়ার থেকে গ্লাভস বের করছিল।


​"এগুলো কেন?"


​ফারিস চুইংগাম চিবোতে চিবোতে সেই পাতলা গ্লাভসটা হাতে গলিয়ে পেছনের দিকে টেনে ফিট করে নিল।


​"মুখের কথার দাম আছে আমার। কথা দিয়েছিলাম ওকে হাত ছোঁয়াব না।" এবার সে দ্বিতীয় গ্লাভসটা পরতে লাগল। ড্রাইভার যুবকটি হেসে মাথা ঝাঁকাল এবং এক্সিলারেটরে চাপ দিল।


​প্রায় চার ঘণ্টা পর একটা নিরিবিলি ফাঁকা রাস্তায় সেই ভ্যানটা এসে থামল। স্লাইডিং দরজাটা খুলল। আরশাদকে নিচে নামানো হলো। তার মুখে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না ঠিকই, তবে সে ধবধবে সাদা আর ভীষণ দুর্বল দেখাচ্ছিল।


​ফারিস গাড়ি থেকে না নেমেই সামান্য ঝুঁকে তার কলার চেপে ধরল এবং তার চোখের দিকে তাকিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল—


​"তোমার মুখটা আস্ত রেখেছি যাতে তুমি যাকে কষ্ট দিচ্ছিলে, সে যেন কিছু বুঝতে না পারে। কাল সকালে গিয়ে তুমি তার কাছে মাফ চাইবে। আর কখনো নিজের এই মুখটা ওকে দেখাবে না। আর হ্যাঁ, আমাদের ড্রইংরুমের এই ভ্রমণের গল্প যদি ওকে শুনিয়েছ বা আবারও ওকে হেনস্তা করার চেষ্টা করেছ, তবে তোমার পেছনে তালিবান লেলিয়ে দেব। আমেরিকানরা পরের ফ্লাইটে তোমাকে তুলে নিয়ে যাবে এবং সারাজীবন তোমার পরিবার তোমার মুখের একটা ঝলক দেখার জন্য তরসাবে। কথা মাথায় ঢুকেছে নাকি যায়নি?" সে এক ঝটকায় কলারটা ছেড়ে দিল।


​আরশাদ দুই হাত তুলে গভীর গভীর শ্বাস নিতে লাগল। বারবার মাথা নেড়ে সায় দিল। এই মুহূর্তে সে কিছু বলার মতো অবস্থায় ছিল না। ফারিস তার দিকে এক শেষ কড়া নজর বুলাল, পেছনের দরজাটা সজোরে বন্ধ হলো এবং ভ্যানটা তীব্র গতিতে সামনে ছুটে চলে গেল।


​🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼


(Koi aaj tak na samajh saka ye usool-e-gulshan-e-zeest ka... wahi phool nazr-e-khizaan hua jise aitbaar-e-bahaar tha)


[আজ পর্যন্ত কেউ এই জীবন-বাগানের নিয়মটি বুঝে উঠতে পারল না... ঠিক সেই ফুলটিই শরতের ঝরাপাতার ডায়েরিতে নাম লেখাল, যার বসন্তের ওপর অগাধ বিশ্বাস ছিল।]


​আজও দরজাটা মেরিই খুলল। সে একটু হাসলও, তবুও নওশেরওয়ানের বাড়িতে কেমন যেন একটা থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছিল, অথবা হয়তো সাদিরই এমনটা মনে হচ্ছিল। যাই হোক, সে মনের সব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে ভেতরে চলে এল। মিসেস কারদারের কথা জিজ্ঞেস করায় জানতে পারল, তিনি বাড়িতে নেই। যাক, ভালোই হলো। কাল তার exam ছিল। শেরু তাকে যে কাজের জন্য ডেকেছে, সেটা জলদি শেষ করে সে দ্রুত বাড়ি ফেরার চেষ্টা করবে।


​শেরুর ঘরের দরজা খোলার আগে সে ঘাড় ঘুরিয়ে একবার দেখল। শেহরিন বেশ রাজকীয় ভঙ্গিতে লাউঞ্জের সোফায় ফায়ারপ্লেসের সামনে বসে ছিল। আঙুলে নিজের সোনালী চুলের লট পেঁচাতে পেঁচাতে সে মুচকি হেসে তার দিকেই তাকিয়ে ছিল। চারপাশের বাতাসে যেন কোনো ষড়যন্ত্রের আভাস আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।


​সাদি দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকল। নওশেরওয়ান চেয়ারে বসে ছিল। সে মাথা তুলে তাকাল। তার চোখ দুটো লাল হয়ে ছিল—নেশার কারণে নয়, তীব্র রাগে।


​"সব ঠিক আছে তো? এত তাড়াহুড়ো করে ডাকলে যে?" সাদি স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞেস করল। সে আসন ছেড়ে উঠল। কুঁচকানো ভ্রু আর ক্রুদ্ধ দৃষ্টি নিয়ে সামনে এগিয়ে এল।


​"কবে থেকে আমার ওপর গোয়েন্দাগিরি করছ তুমি?" সাদি একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।


​"তুমি যদি আমার ওই..."


​"বাজে বকো না! আমি তোমাকে এখানে তোমার সাফাই শোনার জন্য ডাকিনি।"


​"হ্যাঁ, তুমি আমাকে এখানে ডেকেছ যাতে আমাকে অপমান করে এই বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারো।"


​"তুমি কে, শুনি, আমার মায়ের কাছে আমার দালালি করার? তুমি কে যে ওনাকে আমার drugs নেওয়ার ব্যাপারে খবর দাও?" রাগে তার মুখের অবয়ব বিকৃত হয়ে উঠছিল।


​"আমি তোমার বন্ধু!"


​"তুমি আমাকে আমার মায়ের চোখে ছোট করতে চেয়েছ! তুমি..."


​"যদি ছোটই করতে হতো, তবে ওনাকে তোমার ওই ট্রাফিক চালানের কথাও বলতাম, যা গাড়ি ভুলভাবে ড্রাইভ করার জন্য হয়েছিল। ওনাকে এটাও জানাতাম যে তুমি যে মেয়েটাকে অনবরত ফোন করছিলে, তার বাগদত্তার কাছে তুমি মার খেয়েছ। আরও অনেক কিছুই বলতে পারতাম, কিন্তু আমি তোমার ভালো চেয়েছিলাম।"


​"Oh, shut up!" সে রাগে চিৎকার করে উঠল। "আমার ভালো তোমাকে চাইতে হবে না। আমার ওপর তোমার যেটুকু উপকারের ঋণ ছিল, আজ থেকে তাও শেষ। ভবিষ্যতে আমি তোমার এই মুখটাও দেখতে চাই না।"


​"আমি চলে যাচ্ছি, নওশেরওয়ান! কারণ আমি চাই না আমরা একে অপরকে এমন কিছু কথা বলি, যার জন্য পরে আমাদের আফসোস করতে হয়।" সে আর নিজেকে ছোট করতে চাইল না। শেরুকে ওভাবে চিৎকার করতে থাকা অবস্থায় ফেলে রেখে দরজা বন্ধ করে সে বাইরে বেরিয়ে এল, তারপর আচমকা থমকে দাঁড়াল।


​শেহরিন আগের মতোই অহংকারের সাথে বসে তার দিকে তাকিয়ে ছিল।


​"সেদিন তুমি আমার ভাইয়াদের জিজ্ঞেস করছিলে না যে আমি কেমন মেয়ে? এখন বুঝতে পেরেছ আমি কেমন মেয়ে?" চুলে হাত বুলিয়ে অত্যন্ত নিষ্পাপ ভঙ্গিতে সে জিজ্ঞেস করল।


​সাদি এক তিক্ত হাসি হাসল, নেতিবাচকভাবে মাথা নাড়ল এবং সামনে এগিয়ে এসে তার সামনের চেয়ারের পিঠে হাত রেখে থামল।


​"আমি ওই প্রশ্নটা এইজন্য করিনি যে আমি আপনাকে বারান্দায় এমন কিছু কথা বলতে শুনেছিলাম, যা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয় আপনার ছিল। আমি ওই প্রশ্নটা এইজন্য করেছিলাম কারণ আমি আপনাকে study-র জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে আমার আর মিসেস কারদারের সেইসব কথা আড়ি পেতে শুনতে দেখেছিলাম, যা ফাঁস হয়ে যাওয়ার কোনো ভয় আমার অন্তত ছিল না।" সে চিবিয়ে চিবিয়ে প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করল। শেহরিনের মুখের হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল। তার গলায় একটা নার্ভাসনেস স্পষ্ট হয়ে উঠল।


​"বন্ধুত্ব আমার কাছে একটাই জিনিস—সেটা হলো আনুগত্য, এবং তা-ও সম্পূর্ণ শর্তহীন আনুগত্য। মিসেস হাশিম কারদার! ও যদি আবারও drugs নেয়, আমি আবারও ওর মাকে জানাব। কারণ আপনার পরিবারে আমার যাতায়াতের একমাত্র কারণ হলো শেরুর সাথে আমার বন্ধুত্ব। নিশ্চয়ই এখন আপনিও ভালো করে বুঝতে পেরেছেন যে আমি কেমন বন্ধু!" এই কথা বলে সে ঘুরে দাঁড়িয়ে চলে গেল। শেহরিন তীব্র আক্রোশে তাকে চলে যেতে দেখতে লাগল।


​"Idiot!"


​🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼


​হাশিম এক হাতে ব্রীফকেস ধরে অন্য হাতে মোবাইলে কিছু একটা টাইপ করতে করতে করিডোর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। জুমার রাগে লাল হয়ে, ক্ষোভে ফুঁসতে ফুঁসতে দ্রুত তার পেছন পেছন এল। ডান দিক থেকে ঘুরে এসে সে সোজা তার সামনে দাঁড়িয়ে পথ আগলে দাঁড়াল। লোকটা থামল। চোখ তুলে তার দিকে তাকাল।


​"এই কি করলেন আপনি?" জুমার চাপা কিন্তু তীব্র ক্ষোভে গর্জে উঠল। সে এখনও নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।


​"কী করলাম আমি?" সে সামান্য কাঁধ ঝাঁকাল।


​"আপনি আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে আপনি কম থেকে কম সাজার দাবি করবেন। আর এইমাত্র আপনি আদালতে ওর ফাঁসির (death penalty) দাবি করে বসলেন?"


​"আমি কথা দিয়েছিলাম? কী প্রমাণ আছে আপনার কাছে? কোনো কাগজ? কোনো সই?" জুমারের ভেতরে যেন অগ্নুৎপাত ঘটছিল। অত্যন্ত কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়ে সে চরম ঘৃণায় তার দিকে তাকাল।


​"আপনি আমাকে মুখে কথা দিয়েছিলেন।"


​"না, আমি আপনাকে একটা শিক্ষা দিয়েছিলাম যে কখনোই লিখিত দলিল ছাড়া বিপক্ষ পক্ষের সাথে কোনো deal করতে নেই।" সে সম্পূর্ণ শান্ত ছিল। আবারও ফোনে টাইপ করতে লাগল।


​"আমি... আমি আপনার কথায় বিশ্বাস করে ওকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালাম, আর আপনি আমার সাথে এই খেলাটা খেললেন? আপনার কোনো ধারণা আছে এই case-টা রানা সাহেবের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল? এটা ওনার reputation-এর প্রশ্ন ছিল!"


​"এবং সম্ভবত আপনার চাকরিরও। এই বোকামির পর আপনি নিশ্চয়ই আর ওনার চেম্বারে পা রাখার সাহস দেখাবেন না। তবে হ্যাঁ, আপনার যদি কোনো recommendation letter-এর প্রয়োজন হয়, আমি তা লিখে দিতে প্রস্তুত।" সে বেশ মজা পাচ্ছিল।


​জুমার হিংস্র চোখে তার দিকে তাকাল। "আমি ভেবেছিলাম আপনি সাদি আত্মীয়, তাই হয়তো..."


​"আমি যখন সকাল সাতটায় বাড়ি থেকে বের হই, তখন সমস্ত আত্মীয়তা পেছনে ফেলে রেখে আসি। Business is business." তার ফোনটা বেজে উঠল। সে কানে ফোনটা ঠেকিয়ে 'hello' বলতে বলতে সামনে এগিয়ে গেল। জুমার সেখানেই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। হাশিম কিছুটা দূরে গিয়ে ফোন কান থেকে নামাল, ঘুরে জুমারের দিকে তাকিয়ে সামান্য চড়া গলায় বলল—


​"পরের বার আমার সাথে deal করার সময় নিজের মগজটা খাটিয়ে কাজ করবেন।" এই বলে সে ঘুরে গেল। সে চরম অসহায়ত্ব আর ক্ষোভে ফুটতে ফুটতে উল্টো দিকে হাঁটতে লাগল। সে সহজে কারো সামনে কাঁদত না, একমাত্র সাদি ছাড়া। তবে এই মুহূর্তে তার ইচ্ছে করছিল ভরা আদালতের মাঝখানে মাটিতে বসে চিৎকার করে কাঁদতে।


​ফারিস যখন ওদিকে এল, তখন সে বাইরের সিঁড়িতে পিছন ফিরে বসে ছিল। দূর থেকে মনে হচ্ছিল সে কারো জন্য অপেক্ষা করছে, কিন্তু তার মুখটা ফ্যাকাসে আর বিষণ্ণতায় ভরে ছিল। ফারিস শেষ সিঁড়িটায় এসে দাঁড়াল এবং ঘাড় সামান্য বাঁকিয়ে তার দিকে তাকাতে লাগল।


​"আমি এই পথ দিয়েই যাচ্ছিলাম... আপনি ঠিক আছেন তো?"


​জুমার চোখ তুলে তাকাল। তারপর রোদের কারণে চোখের পাতা সামান্য কুঁচকে তার দিকে চেয়ে আলতো করে মাথা নাড়ল। চারপাশে তখনও বেশ ভালোই ভিড় ছিল।


​"ও কি সকালে এসেছিল?" ফারিস বেশ সাবধানে জিজ্ঞেস করল। জুমার একটা ম্লান হাসি হাসল।


​"জি। আপনি ওকে কীভাবে বোঝালেন? ও তো একদম নরম হয়ে গিয়েছিল। মাফও চাইল আর বলল যে ও নিজের এলাকায় ফিরে যাচ্ছে, আর কখনো বিরক্ত করবে না।" সে এখনও লোকটার এই ভোলবদলে অবাক হচ্ছিল।


​"আর অন্য কিছু বলেছে?" সে খুঁটিয়ে জুমারের মুখের অভিব্যক্তি দেখছিল।


​"না।" সে মাথা নাড়ল। "এই সবকিছুর জন্য অনেক ধন্যবাদ, ফারিস!" ম্লান হাসিটুকুও এবার মিলিয়ে গেল। তার নিস্তেজ মুখটা নিচের দিকে ঝুঁকে পড়ল।


​"অন্য কোনো সমস্যা হয়েছে?"


​"আমার চাকরিটা চলে গেল। ছাড়তে তো এমনিও হতো, অন্য কোথাও apply করে রেখেছিলাম। কিন্তু এইভাবে চাকরিটা চলে যাবে, তা কখনো ভাবিনি।" সে হাশিমের নাম নিল না, ফারিসও এর কারণ জানতে চাইল না। দুজনের কাছেই এটাই সঠিক মনে হলো।


​"আম্মু কি গত সপ্তাহে আপনার কাছে আমার কোনো কথা তুলেছিলেন?" কিছুটা থেমে ফারিস জিজ্ঞেস করল। জুমার চমকে উঠে তার দিকে তাকাল। তারপর কিছু না বুঝেই নেতিবাচকভাবে মাথা নাড়ল।


​"না তো, কেন?" ফারিস শুধু এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর আলতো করে মাথা নাড়ল।


​"এমনিই। আপনার আব্বুর সাথে দেখা করার কথা ছিল তো... আমার মনে হয় উনি আমাকে পছন্দ করেন না। যাইহোক, ছেড়ে দিন ওসব। নিজের খেয়াল রাখবেন।" ফারিস প্রসঙ্গটা ওখানেই শেষ করে দিল এবং জুমারও আর বাড়াল না। সে ঘুরে দাঁড়াল। পকেটে হাত গুঁজে, মাথা নিচু করে সে দূর থেকে দূরে হারিয়ে যেতে লাগল। জুমার মাথা নিচু করে শূন্য চোখে নিজের হাতের রেখাগুলোর দিকে তাকিয়ে রইল।



🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼



Ek nigaah barfeeli, ek bol patthar sa...

Insaan sirf khoon behne se hi nahi marta.


[একটি বরফশীতল দৃষ্টি আর পাথরের মতো একটি কঠিন কথা... মানুষ তো শুধু রক্তক্ষরণেই মরে না।]


খাবারের টেবিলে রুটি রাখার পাত্র, তরকারির বাটি, সালাদ—সবকিছুই প্রতিদিনের মতো সাজানো ছিল। সে রুটির টুকরো ছিঁড়তে ছিঁড়তে বলছিল—


"আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, আব্বা! সাদি যে লোকটার এত প্রশংসা করত, সে এতটা নিচ কাজ করতে পারে!" টুকরোটা চিবিয়ে সে জলের গ্লাসটা ঠোঁটে ছোঁয়াল। তারপর একে একে দুজনের দিকেই তাকাল। "আমি সাদিকেও ফোন করে বলে দিয়েছি, ভবিষ্যতে আর কখনো আমার সামনে ওর ওই হাশিম ভাইয়ের নাম যেন না নেয়।"


"ও জবাবে কী বলল?" বড়ো আব্বা বেশ গম্ভীর হয়ে জিজ্ঞেস করলেন।


"ও তো নিজেই আকাশ থেকে পড়েছে। তবে ওর মনে হয়েছে, এর পেছনে কোনো ভুল বোঝাবুঝি আছে। আমিও আর বেশি জোর দিইনি। নিজের ভাইয়ের জন্য ওর মনটা কেন খারাপ করতে যাব?"


ফারহানা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সালাদের প্লেটটা তুলে নিলেন।


"হবে না-ই বা কেন, ফারিসের কাজিন বলে কথা!"


বড়ো আব্বা একটা তিরস্কারের দৃষ্টি ওনার দিকে দিলেন এবং ঠিক একই রকম আরেকটা দৃষ্টি জুমারের দিকে ছুড়ে দিয়ে মাথা ঝাঁকিয়ে খেতে লাগলেন। জুমার তরকারিতে রুটির লোকমা ভেজাতে ভেজাতে মাথা নাড়তে লাগল।


"না আম্মু! ফারিস কিন্তু ভীষণ ভালো ছেলে। খুব decent আর well-mannered। সবসময় একদম টু দ্য পয়েন্ট কথা বলে। কখনো কারো ক্ষতি করার মতো কোনো কাজ ও করবে না।"


বড়ো আব্বার মুখের লোকমা গলায় আটকে গেল। তিনি চমকে উঠে জুমারের দিকে তাকালেন, তারপর ফারহানার দিকে। ওনাদের মুখের রঙ কিছুটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। তিনি তড়িঘড়ি করে বাটির ঢাকনা খুলে রুটিগুলো গুনতে লাগলেন।


"এগুলোতেই হয়ে যাবে, নাকি আরও দুটো বানিয়ে দেব?"


"You know what?" জুমারের হাশিমের ওপর রাগটা এখন অনেকটাই কমে এসেছিল এবং সে ফারিস আর হাশিমের মধ্যকার পার্থক্যটা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিল। "শুধুমাত্র আমি ফারিসের কাজ করছি বলে, ও গত এক-দেড় সপ্তাহে আমাকে বেশ কয়েকটা favor একসাথে করে দিল, অথচ একবারের জন্যও আমাকে মুখ ফুটে বলেনি। সাদি প্রায়ই বলে যে ওদের মামু নাকি ভীষণ রাগী, কিন্তু আমার মনে হয় ও ভীষণ sober। আর হাশিম... উফ!" এক ধরনের অস্বস্তিতে মাথা ঝাঁকিয়ে সে পরের লোকমাটা মুখে তুলল।


বড়ো আব্বার খাওয়া যেন বিষ হয়ে গেল। তিনি ন্যাপকিন দিয়ে হাত ঘষে ঘষে পরিষ্কার করতে লাগলেন। জুমার খাওয়া শেষ করে প্লেটগুলো একসাথে গুছিয়ে রান্নাঘরের দিকে নিয়ে গেলে ফারহানাও ওনার পেছন পেছন চলে এলেন। জুমার ফ্রিজ খুলতেই দেখল, ভেতরে একটা মিষ্টির প্যাকেট রাখা আছে।


"এটা কোথা থেকে এল, আম্মু?" সে হাত বাড়িয়ে একটা গুলাব জামুন তুলে নিয়ে কামড় দিল।


"হাম্মাদের বাড়ি থেকে। ওরা আজ এসেছিল। আমরা ওদের ‘হ্যাঁ’ বলে দিয়েছি। তোমাকে তো বলেছিলাম।" তিনি তরকারিগুলো ছোট পাত্রে ঢেলে ফ্রিজে রাখতে রাখতে বললেন।


"হুম, ভালোই হয়েছে।" গুলাব জামুনটা মুখের ভেতর একদম মিলিয়ে গেল। সে হাত-মুখ ধুয়ে মুখে সামান্য হাসি নিয়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল।


ফারহানা বাকি বাসনপত্র তুলতে ফিরে এলে দেখলেন, বড়ো আব্বা তখনও প্রধান চেয়ারটায় স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন। তিনি চোখ তুলে তাকালেন। ওনার চোখে এক ধরনের কষ্ট আর অনুশোচনা স্পষ্ট ছিল।


"আপনি জুমারকে একবার জিজ্ঞেসও করেননি?" তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন।


"জিজ্ঞেস করলেও ও যদি রাজি হতো, তবুও আমি নুদরাতের ভাইকে আমার মেয়ের জীবনসঙ্গী হিসেবে কখনো মেনে নিতাম না, ইউসুফ সাহেব! কখনোই না! নুদরাত চায় আমি যেন সবসময় ওর সামনে মাথা নিচু করে থাকি। তা কিছুতেই হতে দেওয়া যাবে না।" তীব্র গলায় কথাগুলো বলতে বলতে তিনি বাসনপত্র গোছাতে লাগলেন।


"আপনি জুমারকে একবার জিজ্ঞেসও করেননি?" তিনি চেয়ারটা পেছনে ঠেলে উঠে দাঁড়ালেন। ফারহানা বেশ চিন্তিত চোখে ওনাকে চলে যেতে দেখলেন। তিনি ড্রয়িংরুমে যাননি, নিজের ঘরের দিকে চলে গেলেন। ফারহানা মনে মনে কিছুটা স্বস্তি পেলেন। যাক, অন্তত এই আপদটা তো বিদায় হলো, যেভাবেই হোক না কেন।


🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼



(Ro pada hoon to koi baat hi aisi hogi... main ke waqif tha tere hijr ke aadaab se bhi)


[যদি আজ কেঁদেই ফেলে থাকি, তবে নিশ্চয়ই তেমন কোনো গভীর কারণ আছে... আমি তো তোমার বিচ্ছেদের সমস্ত আদব-কায়দা খুব ভালো করেই জানতাম।]


ওয়ারিস লাউঞ্জে পা রাখল। দুপুরের এক গুমোট অন্ধকার ছেয়ে ছিল চারদিকে। ফ্যান বন্ধ। সোফার ওপর হাঁটু মুড়ে বসে ছিল হানিন। সে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ চোখে শূন্যে তাকিয়ে ছিল। ওয়ারিস এদিক-ওদিক তাকাল।


"এই গরমে কেন বসে আছ?" বেশ সাবধানে ডাকতে ডাকতে সে কাছে এল। ঘাড় বাঁকিয়ে ওর মুখের অভিব্যক্তিটা দেখার চেষ্টা করল। হানিন বেশ রুক্ষ চোখে তাকাল।


"কারেন্ট নেই। একটা থেকে দুটো পর্যন্ত যায়, তারপর আবার বিকেলে চারটে থেকে পাঁচটা পর্যন্ত যাবে।"


ওয়ারিস হেসে ফেলল।


"পাকিস্তানের এমন কোনো মগজ নেই, যা লোডশেডিংয়ের এই হিসাব মুখস্থ রাখেনি।"


হানিন কিন্তু হাসল না। সে আগের মতোই সামনের দিকে তাকিয়ে রইল। সে তার মুখোমুখি সোফাটায় বসল এবং গম্ভীর মুখে ওর দিকে তাকাল।


"কী হয়েছে?"


"আজ ফুপ্পু এসেছিলেন। আম্মু দর্জির কাছ থেকে কিছু জামাকাপড় এনেছিলেন, ওগুলোই দিতে। আমিও আজ ওনাকে পাত্তা দিইনি। উনি নিশ্চয়ই ভাবছেন আমি ওনার ওপর রেগে আছি। ওনার মুখের হাসিটাও মিলিয়ে গিয়েছিল। হয়তো অবাক হয়েছেন। যাই হোক!"


অথচ উনি মোটেও অবাক হননি, কেবল ওনার মুখটা কিছুটা ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল। আজ ভুল করে ফেলে যাওয়া চাবিগুলো হানিন কুড়িয়ে নিয়ে এসেছিল, একটু হেসেওছিল, কিন্তু গত কয়েকদিনের সেই চেনা বেপরোয়া ভাবটা যেন কর্পূরের মতো উবে গেছে। সেই চিরচেনা দূরত্বটা আবারও মাঝখানে এসে দাঁড়িয়েছে।


"আর তুমি এমনটা কেন করলে?"


"আপনি কি জানেন না? ওনারা মামুর বিয়ের প্রস্তাবটা ফিরিয়ে দিয়েছেন।"


"তাতে কী হয়েছে?"


"তাতে কী হয়েছে?" হানিন চরম বিস্ময় নিয়ে তার দিকে তাকাল। "আপনার খারাপ লাগেনি?"


"আমার খারাপ লাগা দিয়ে কী হবে? এটা প্রতিটি মানুষের নিজস্ব অধিকার। উনি নিশ্চয়ই কিছু ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।"


"আপনি যা-ই বলুন না কেন, আমি ওনাকে এখন আর একদম, এক ফোঁটাও ভালোবাসি না। আর কখনো বাসবও না!" সে এক ধরনের অসহায় আক্রোশে ওয়ারিসের দিকে তাকিয়ে বলল। সে ঠোঁটে হাত রেখে শান্তভাবে ওর কথাগুলো শুনে গেল।


"আমি আব্বুকেও ভালোবাসি না। তিনি আমাদের ঠিক তখন ছেড়ে চলে গেলেন, যখন আমাদের ওনাকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল। ওনার উচিত ছিল রাস্তায় সাবধানে গাড়ি চালানো। ওনার আমাদের কথা ভাবা উচিত ছিল।" সে মাথা নিচু করে কথাগুলো বলছিল আর তার গলা কান্নায় বুজে আসছিল। "আমি ফুপ্পুকে যখনই দেখতাম, ওনার মধ্যে আমি আব্বুর ছায়া দেখতে পেতাম। আমার মনে হতো, আমরা কখনো বন্ধু হতে পারব না—আমি আর ফুপ্পু কোনোদিনই না। যদি আমরা খুব কাছাকাছি চলে আসি, তবে উনিও আমার কাছ থেকে হারিয়ে যাবেন। কিন্তু গত কয়েকদিনে আমার মনে হতে শুরু করেছিল যে তেমনটা হবে না। আর শেষমেশ সেটাই হলো! এখন আমার কোনো friend নেই। আমি আর কখনো কোনো সমস্যা নিয়ে ওনার কাছে যাব না।" মাথা নিচু করে থাকায় তার চোখের জল টুপটুপ করে মেঝেতে পড়ছিল।


"ফারিসের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার মানে এই নয় যে, ওনার মনে তোমার জন্য ভালোবাসা কিছুটা কমে গেছে।"


"আপনি যা-ই বলুন না কেন, আমরা কখনো বন্ধু হতে পারব না।"


"আচ্ছা ঠিক আছে। চলো বাইরে কোথাও গিয়ে কিছু খেয়ে আসি।" সে চাবি তুলে নিয়ে উঠে দাঁড়াল।


"আমি কিছু খাব না!" রাগে মাথা ঝাঁকাল সে। সে তখনও ভীষণ জেদ ধরে বসে ছিল, যেন গোটা পৃথিবীর ওপরই তার অভিমান।


"চলো যাই। আমি তো ভাবছিলাম ওই বোলান রেস্তোরাঁয় গিয়ে মাটন কড়াই বানাতে দেব..." (হানিন এক ঝটকায় তার ভেজা মুখটা তুলল) "...সাথে তন্দুরি রুটি, সালাদ... কিন্তু থাক, বাদ দাও। তুমিই তো বললে কিছু খাবে না।"


"মাটন কড়াই কিন্তু ‘কিছু না’-র মধ্যে পড়ে না, বুঝলেন!" জলদি জলদি মুখটা ওড়না দিয়ে মুছে নিয়ে সে এক লাফে সোফা থেকে নেমে ভেতরের দিকে দৌড়ে গেল। সাথে সাথে ভেতর থেকে আওয়াজও দিতে লাগল—


"আম্মু... আম্মু... মামু বলছেন আমরা খেতে বাইরে যাচ্ছি..."


সে মুচকি হেসে গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার জন্য বাইরে চলে গেল।


🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼



(Ye saanpon ki basti hai zara dekh kar chal... yahan ka har shakhs bade pyaar se dasta hai)


[এটা সাপের বসতি, একটু সাবধানে চলো... এখানকার প্রতিটি মানুষ বড় ভালোবাসা দিয়ে ছোবল মারে।]


এয়ারপোর্ট থেকে বাড়ি পর্যন্ত পুরোটা রাস্তা দুজনেই সম্পূর্ণ চুপ করে ছিল। যখন গাড়িটা কারদার প্রাসাদের সামনে এসে থামল, তখন জওয়াহেরাত ড্রাইভারের দিকে তাকালেন।


"তুমি বাইরে যাও।"


শেহরিন, যে গাড়ি থেকে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, চমকে উঠে ওনার দিকে তাকাল। সে নিজের sunglasses-টা ওপরে তুলে চুলে সেট করে নিল। ড্রাইভার নেমে গেলে জওয়াহেরাত মুচকি হেসে ঘাড় ঘুরিয়ে ওর দিকে তাকালেন।


"পরের বার নওশেরওয়ানের মনে আমার প্রতি সন্দেহ তৈরি করার বা আমার contact-দের বিরুদ্ধে ওকে খেপিয়ে তোলার আগে একশ-একবার ভেবে নিও। কারণ এটাই শেষবার, যখন আমি বিষয়টা উপেক্ষা করলাম। তা-ও শুধুমাত্র এই কারণে যে, এক-দু বছরের বেশি তোমাকে আমি এই বাড়িতে টিকতে দেখছি না। তাই এই সংক্ষিপ্ত সময়টুকু আমি তোমার জন্য অপ্রীতিকর করতে চাই না, আর তুমিও আমার জন্য করবে না। আমি চাইলে হাশিমকে বলে দিতে পারতাম যে তুমি তোমার খালার বাড়ি এত ঘনঘন কেন যাও। কিন্তু আমি আমার ছেলের এই ছোট্ট বিবাহিত জীবনটা নষ্ট করতে চাই না। তাই আমি ওকে বলব না যে, তোমার খালার ছেলের নাম শুনলেই তোমার মুখের রঙ কীভাবে সাদা হয়ে যায়, ঠিক যেমন এই মুহূর্তে হয়ে গেছে। Clear?"


তিনি মুচকি হেসে এক বরফশীতল কণ্ঠে কথাগুলো বলে দরজার দিকে ঘুরলেন। শেহরিন কোনোমতে ঢোক গিলল, তারপর নিজের আত্মসম্মান বাঁচানোর চেষ্টায় ঘাড় শক্ত করে বলল—


"হাশিম জানে যে ও আমার বন্ধু ছিল।"


"একদম! হাশিম এটাই জানে যে ও তোমার বন্ধু... ছিল!" শেহরিনকে লক্ষ্য করে মুচকি হেসে ওনার শেষ তীরটি ছুড়ে দিয়ে তিনি গাড়ি থেকে নেমে গেলেন। শেহরিন চোখ দুটো বন্ধ করে আবার খুলল।


"(বোটক্স দেওয়া বুড়ি একটা!)"


সে-ও নিজের মুখে একটা কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে গাড়ি থেকে নেমে এল।


🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼


Be-aitbaar shakhs tha wo waar kar gaya...


lekin mere shaoor ko bedaar kar gaya


[সে এক অবিশ্বাস্য মানুষ ছিল, যে পেছন থেকে আঘাত করে গেছে... তবে সে আমার চেতনাকে চিরতরে জাগিয়ে দিয়ে গেছে।]


আদালত প্রাঙ্গণে প্রতিদিনের মতোই চেনা ব্যস্ততা ছিল। হাশিম মোবাইলে কথা বলতে বলতে সেই অফিসের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল। আশেপাশের টেবিলগুলোকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সে সোজা শেষ ডেস্কটার দিকে এগিয়ে গেল।


"হ্যাঁ, তুমি কাজ শেষ করে আমাকে জানিয়ে দিও। দুই ঘণ্টার মধ্যে। অবশ্যই।" মোবাইলটা বন্ধ করে সে চেয়ারটা টেনে সামনে তাকাতেই থমকে গেল।


সে চেয়ারে আরাম করে হেলান দিয়ে বসে মুচকি হেসে তার দিকেই তাকিয়ে ছিল। কোঁকড়ানো চুলগুলো খোপায় বাঁধা, শুধু একটা আলগা লট তার গাল ছুঁয়ে যাচ্ছিল। হাশিমের চোখ দুটো অবলীলায় টেবিলের ওপর রাখা নেমপ্লেটের দিকে ঝুঁকে পড়ল।


"পরিচয়টা আমি নিজেই করিয়ে দিচ্ছি। Public District Prosecutor জুমার ইউসুফ খান। দুই সপ্তাহ আগে আমার নিয়োগ হয়েছে। আর সম্ভবত প্রায় এক মাস আগে আপনার সাথে আমার শেষ দেখা হয়েছিল। আমাকে ভুলে যাননি তো আপনি?"


হাশিম আচমকাই হেসে ফেলল। হাসতে হাসতেই সে নেতিবাচকভাবে মাথা নাড়ল এবং অত্যন্ত কৌতুকপূর্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল।


"তার মানে, আমার কারণেই আপনি একটা নতুন job পেয়ে গেলেন। Good!"


"তাহলে এখন বলুন, কারদার সাহেব, ঠিক কোন case-এর সিলসিলায় আপনি এসেছেন?" সে মুচকি হেসে হাত দুটো টেবিলের ওপর রেখে সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকে বসল।


"আমার মনে হয়, ভবিষ্যতে আমাদের অনেক মামলা এখানেই বসে সমাধান করতে হবে। তাই... কেন আপনি প্রথমে আমাকে এক কাপ ভালো চা খাওয়াচ্ছেন না? চিনি ছাড়া।" সে তখনও পুরো বিষয়টাতে বেশ মজা পাচ্ছিল।


জুমার এক শীতল হাসি হাসল।


"Sure! আমার ডেস্কে চায়ের সরঞ্জাম সবসময়ই থাকে। আপনাকে এখন এখানে নিজেই চা বানানোর অভ্যাস করতে হবে। তবে আজ থাক... কারণ প্রথম চা-টা আমিই আপনার জন্য বানিয়ে দিচ্ছি। চিনি ছাড়া।" এই বলে সে আসন ছেড়ে উঠে কেটলিটা হাতে নিল। হাশিম চেয়ারের হাতলে কনুই রেখে, থুতনিটা হাতের ওপর ভর দিয়ে গভীর চোখে তার চা বানানো দেখতে লাগল।


"এবার case-টা নিয়ে কথা বলা যাক, কারদার সাহেব!" কাপটা তার সামনে রাখতে রাখতে জুমার সুগার পট থেকে চামচ দিয়ে দু-চামচ চিনি বের করল, তাকে দেখাল এবং চায়ের কাপে ঢেলে দিয়ে চামচটা পিরিচের ওপর রেখে দিল। তারপর নিজের চেয়ারে এসে বসে বলল, "বিশ্বাস করুন, আমার মগজ আজ একদম ঠিকঠাক কাজ করছে।"


হাশিম আবারও হেসে উঠল, তবে মনে মনে এক তীব্র আক্রোশে জ্বলতে জ্বলতে।


পাঁচ বছর পরও সে ঠিক একইভাবে বুফে টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে হেসে হেসে কারো সাথে কথা বলছিল। আর আনমনে তার দিকে তাকিয়ে থাকা জুমার কিছুটা চঞ্চল হয়ে উঠল। চারপাশের বিয়ের অনুষ্ঠানটা, যা স্মৃতির ধুলোয় ধোঁয়াটে হয়ে গিয়েছিল, তা এখন একদম স্পষ্ট হয়ে ধরা দিল।


সে এক হাত দিয়ে নিজের রগ ঘষল এবং তীব্র যন্ত্রণায় চোখ দুটো বন্ধ করল। হানিন মিষ্টি নিতে চলে গিয়েছিল, কিন্তু যাওয়ার আগে সে যে কথাগুলো বলে গেছে, তার রেশ তখনও কাটেনি। এই বিয়ের প্রস্তাব কবে দেওয়া হয়েছিল, কবেই বা তা নাকচ হয়েছিল—তা জুমার জানত না, তবে একটা বিষয় এখন তার সামনে আয়নার মতো পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।


গত চার বছর ধরে সে যে ভেবে আকুল হচ্ছিল যে ফারিস কেন তার সাথে এমনটা করল, আজ সে তার নিখুঁত উত্তর পেয়ে গেছে। সে প্রতিশোধ নিয়েছিল! প্রত্যাখ্যানের প্রতিশোধ।


"(আমি তোমাকে ঠিক একটা গুলিই মারব বুকে...)"


নিজের মনে মনে সে তো এটাই বলেছিল, তাই না? জুমারের সব মনে পড়ে গেল। প্রতিশোধ যখন, তখন প্রতিশোধই সই।


"(আমি তোমাকে একটা গুলি মারব, জুমার। ঠিক একটা গুলি!)"


একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে সে নিজের মোবাইল থেকে একটা নম্বরে কল করে কানে ঠেকাল।


"বাসিরাত সাহেব! দুঃখিত, আমি আপনাকে একটা ভুল সময়ে বিরক্ত করছি। আমার একটা case file প্রয়োজন। জি... public records ছাড়াও ওই কেস-সংক্রান্ত যা কিছু আপনার কাছে personal collection-এ আছে, সেই পুরো বক্সটা পাঠিয়ে দিন। আমি আমার লোক পাঠাচ্ছি আপনার কাছে।"


ওপাশ থেকে জানতে চাওয়া হচ্ছিল যে ঠিক কোন মামলাটার ফাইল তার প্রয়োজন। জুমার একটা গভীর শ্বাস নিল। কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কিরণ আর হাম্মাদকে তাদের যমজ বাচ্চাদের সাথে এবং বর-কনের সাথে হাসিমুখে ছবি তুলতে দেখে যখন সে মুখ খুলল, তখন তার কণ্ঠস্বর ছিল বরফের মতো শীতল—


"সরকার বনাম ফারিস গাজী।"


সে ফোনটা কেটে দিল এবং সোজা সামনের দিকে তাকাতে লাগল। মুখাবয়ব এখন সম্পূর্ণ ভাবলেশহীন আর মনটা কিছুটা শান্ত।


দূরে হানিন ডেজার্ট টেবিলের প্লেটে মিষ্টি তুলছিল। আড়চোখে সে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাশিমকে কারো সাথে কথা বলতে দেখছিল। সে খুব ধীরে ধীরে চামচটা নাড়ছিল, যতক্ষণ না হাশিমের সাথে কথা বলতে থাকা লোকটা বিদায় নিল। লোকটা চলে যেতেই হানিন ওনার কাছাকাছি এল। হাশিম তাকে দেখে শুধু আলতো করে একটু হাসল।


"আমাকে আপনাকে একটা কথা বলার ছিল..." নিজের বাটির চামচটা নাড়তে নাড়তে এবং সেটার দিকে তাকিয়ে সে থমকে থমকে বলল। "যে... আমারও খুব আফসোস হয়েছে। আপনার ফাদারের ডেথের কথা শুনে। ওনার জানাজায় আমার যাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু আমি যেতে পারিনি। I'm sorry, হাশিম ভাই!" সে চোখ তুলে ওনার দিকে তাকাল। হাশিম মাথা সামান্য ঝুঁকিয়ে তার এই সমবেদনা গ্রহণ করল।


"It's okay. তবে তোমার আসা উচিত ছিল, হানিন! সাদি তো এসেছিল। তখন না হোক, পরে আসা উচিত ছিল। কিন্তু তারপর তোমরা আমাদের ওদিকে... একদমই আসা ছেড়ে দিলে।" শেষ শব্দগুলো উচ্চারণ করার সময় হাশিমের গলায় যেন কিছু একটা আটকে গেল। ঘাড়ের শিরাটা ক্ষণিকের জন্য ভেসে উঠে আবার মিলিয়ে গেল, চোখে এক অদ্ভুত চমকে ওঠার অনুভূতি। হানিন যদি ওনার দিকে ভালো করে খেয়াল করত, তবে হয়তো সেটা টের পেত।


"I'm sorry!" সে মাথা নিচু করে কথাটি বলে ঘুরে দাঁড়াল। মিষ্টির টেবিলের কাছে ফিরে আসতেই দেখল, সাদি সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। সে নিচু স্বরে বলল, "হাশিম ভাই কী বলছিলেন?"


হানিন এক বিষণ্ণ চোখে তার দিকে তাকাল।


"আমি ওনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছিলাম যে আমি ওনার আব্বুর ইন্তেকালে যেতে পারিনি। আমার যাওয়া উচিত ছিল। আর তার আগে উনিও দুঃখ প্রকাশ করলেন। উনি বললেন যে ওনার আফসোস হচ্ছে।"


সাদি বাটির সুফলের ওপর চামচটা উল্টে দিতে দিতে এক তিক্ত হাসিতে মাথা নাড়ল।


"কত সহজ, তাই না, হানিন? দেড় বছর পর একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে বলে দেওয়া যে আমার আফসোস হচ্ছে! হুহ।"


হানিন এক চরম হতাশা নিয়ে তার দিকে তাকাল।


"ওনার খারাপ লাগছে। সত্যিই লাগছে।"


"পরের বার যখন উনি তোমাকে বলবেন যে ওনার আফসোস হচ্ছে, তখন ওনাকে বলো—শুধু আফসোসটাই যথেষ্ট নয়।" সে অত্যন্ত গম্ভীর মুখে কথাটি বলে ওখান থেকে চলে গেল। সে এখন জুমারের টেবিলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। হানিন বুকভাঙা এক কষ্ট নিয়ে সেখানেই ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। সে কি সারাজীবন এই একটা বিন্দুতেই দাঁড়িয়ে থাকবে? সে-ও কি ফুপ্পুর মতো কখনো জীবনে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে না?


তার মনটা এক পলকের জন্য চারপাশের পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। তার হৃদয়ে আর মস্তিষ্কে যেন এক ঘন কুয়াশা ছেয়ে আসছিল... এক অন্ধকার কালো রাতে সোনালি কুয়াশা... আর তার পুরো চেতনা সেই কুয়াশার গভীরে তলিয়ে যেতে লাগল... ডুবতে লাগল... এবং আরও গভীরে ডুবে গেল।



চলবে,,,,,


Comments

Popular posts from this blog

মুসহাফ - পর্ব: ০৩ (অনুবাদে: রেজওয়ান হোসেন মাসুম) (ফারিস্তে_ইব্রাহিম) (মেহমিল_ইব্রাহিম) (হুমায়ুন_দাউদ) (ফাওয়াদ_কারীম)

মুসহাফ - পর্ব: ০৪ (অনুবাদে: রেজওয়ান হোসেন মাসুম) (ফারিস্তে_ইব্রাহিম) (মেহমিল_ইব্রাহিম) (হুমায়ুন_দাউদ) (ফাওয়াদ_কারীম)

মুসহাফ - পর্ব: ১৩ (অনুবাদে: রেজওয়ান হোসেন মাসুম) (ফারিস্তে_ইব্রাহিম) (মেহমিল_ইব্রাহিম) (হুমায়ুন_দাউদ) (ফাওয়াদ_কারীম)