নামাল-(Namal) অধ্যায়:১০ পর্ব ৪৪, #ফারিস_গাজী (Faris Ghazi) #জুমার_ইউসুফ (Zumar Yousuf)

 



#নামাল-(Namal)


#ফারিস_গাজী (Faris Ghazi) 

 

#জুমার_ইউসুফ (Zumar Yousuf) 



অধ্যায়:১০


পর্ব :-৪৪


Itna bhi sabr-o-shukr ka qail nahi yeh dil ke har kaifiyat mein aap ke gun gaaye jaayega


[এই মন ধৈর্য আর কৃতজ্ঞতায় এতটা অন্ধ নয় যে, প্রতিটা পরিস্থিতিতে শুধু আপনারই গুণগান গেয়ে যাবে।]


---


পরের দিন সকালটা শহরের বুকে আগের চেয়েও বেশি তপ্ত হয়ে উদিত হয়েছিল।


ছোট বাগানটা রোদের তাপে যেন ঝলসে যাচ্ছিল।


ঘাসগুলো পুড়ছিল, ফুলগুলো শুকিয়ে মরছিল।


এমন পরিস্থিতিতে ঘরের ভেতরের কুলারের ঠান্ডা, আর্দ্র হাওয়া গরমটাকে কিছুটা কমিয়ে রেখেছিল।


আর থেকে থেকেই কুলার থেকে উড়ে আসা জলের সূক্ষ্ম ছিটোগুলো কখনও সামনে বসে থাকা ফারিসকে ছুঁয়ে যাচ্ছিল, তো কখনও হানিনকে এসে লাগছিল।


নুদরাত ল্যান্ডলাইনের রিসিভার কানে ঠেকিয়ে কথা বলছিলেন, আর সোফায় হেলান দিয়ে এক পায়ের ওপর আরেক পা তুলে বসা ফারিস—যার একটা হাত সোফার পিঠের ওপর ছড়ানো ছিল—সে ওনার দিকেই তাকিয়ে ছিল।


সামনের সোফায় পা তুলে বসা হানিন কোলের ওপর আমের প্লেটটা রেখে বেশ বিরক্তি নিয়ে একটা ফালি কাটছিল।


“হ্যাঁ। এটা ফারিস নিজেই আমাকে বলেছে বড় আব্বা।” নুদরাত কথাটার সাথে ফারিসের দিকে তাকালেন।


“হ্যাঁ, ও এই রবিবারের কথাই বলছে। হ্যাঁ আব্বা, আমিও ওকে বলেছিলাম যে রবিবারের আর মাত্র তিন দিন বাকি, কিন্তু ওর কথা হলো ও আর দেরি করতে চায় না। আপনি জুমারকে একবার জিজ্ঞেস করে জানান, যদি ওর কোনো objection না থাকে তবে...” তিনি একটু থেমে ওপাশ থেকে কথা শুনতে লাগলেন।


ওনার মুখে এক পরম স্বস্তি আর খুশি ছিল।


“হ্যাঁ আব্বা। ঠিক আছে। আমি ফারিসকে জানিয়ে দিচ্ছি। থ্যাংক ইউ আব্বা।” ফোনটা রেখে উনি ওর দিকে ঘুরলেন।


“ওনারা বলছেন নিকাহ-র জন্য রবিবারের দিনটাই ঠিক আছে। রাজি হয়ে গেছেন।”


ফারিস বেশ অবাক হয়ে ভুরু কুঁচকাল।


“নিজের মেয়ের সাথে কথা না বলেই?”


“ওনার কথা হলো, যখন অপর পক্ষ থেকে বিয়ের ডেট চাওয়া হয়, তখন না করতে নেই। এর আগেও দু-দুবার তো ঠিক এমনটাই হয়েছিল, তাই না? উনি এবার বড্ড ভয় পেয়ে গেছেন। কিন্তু তুমি আমাকে বলো, এত তাড়াহুড়ো করার কী দরকার ছিল?” উনি বেশ মনোযোগ দিয়ে ওর দিকে তাকালেন।


“বেশি দেরি করলে হয়তো আমি আমার mind চেঞ্জ করে ফেলব।” আলতো করে কাঁধ ঝাঁকিয়ে সে কুলারের দিকে তাকাতে লাগল।


“এই দুদিনে কী প্রিপারেশন হবে? মানলাম শুধু ঘরের লোকেরাই থাকবে, তাও কিছু তো করতেই হয়!”


“আম্মু, আমার জামাকাপড়ও কিন্তু কিনতে হবে।” হানিন আমের ফালি খেতে খেতে ফোড়ন কাটল।


“আমার জামাকাপড়ও!” ভেতর থেকে সায়াম গলা ফাটিয়ে চিৎকার করল।


“হ্যাঁ, জুমারের dress নিই আর না নিই, তোমাদের সব জিনিস ঠিকঠাক থাকা চাই! ওঠো, নামাজ পড়ে নাও।” বেশ বিরক্ত হয়ে কথাগুলো বলতে বলতে উনি হাঁটুর ওপর হাত দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন আর নিজের ঘরের দিকে চলে গেলেন।


“এখনও সময় আছে, রিফিউজ করে দিন মামু।” হানিন বড্ড সিরিয়াসলি ওনাকে বলল।


“আমি কিন্তু সব শুনছি হানিন! ফালতু বকবক বন্ধ করো। ওঠো, নামাজ পড়ো।” ভেতর থেকে আম্মুর কড়া আওয়াজ এতদূর পর্যন্ত ভেসে এল, কিন্তু সে একদম নির্বিকারভাবে আমের ফালিটা দাঁত দিয়ে কামড়ে মুখের ভেতর চালান করে দিল।


“আমি ওনাকে না বলতে পারব না। ওনার অনেক এহসান আছে আমার ওপর।” সে নিজের গলাটা নামিয়ে নিল।


হানিন প্রথমে রস মাখা হাতে আমের খোসার প্লেটটা নিয়ে উঠে দাঁড়াল আর কিচেনে চলে গেল।


যখন ফিরে এল, তখন হাত-মুখ ধোয়া ছিল।


গম্ভীর মুখে ওর দিকে তাকাতে সে ওর কাছের সোফাটায় এসে বসল।


“আম্মুকে বলে দিন, উনিই না করে দেবেন।” সে একটা নতুন idea দিল।


“তুমি কেন চাও যে আমি রিফিউজ করি?”


“কারণ আমার এই সব কিছুর ফিলিং ভালো ঠেকছে না। আপনি একটা মস্ত বড় ভুল করতে যাচ্ছেন। উনি আপনাকে বিন্দুমাত্র পছন্দ করেন না, তাহলে ওনার সাথে লাইফ কীভাবে লিভ করবেন?”


“তোমার কি মনে হয়, ও আমার সাথে যা করেছে আমি সব ভুলে গেছি?”


হানিন চমকে ওর দিকে তাকাল।


“কী ভুলোননি?”


“চার বছর!” ফারিস বুড়ো আঙুলটা ভেতরে মুড়ে বাকি চারটে আঙুল ওকে দেখাল।


“চার বছর ধরে ওই মহিলা আমার সাথে যা করেছে, আমাকে যেভাবে হিউমিলিয়েট করে রেখেছে, পুরো দুনিয়ার সামনে আমাকে কালপ্রিট প্রুভ করার ট্রাই করেছে, আমার পাশে দাঁড়ায়নি—তার কিছুই আমি ভুলে যাইনি।” আর এই কথাগুলো বলার সময় ওর চোখ দুটো বড্ড কঠোর হয়ে উঠেছিল।


হানিন একদম স্তব্ধ হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর না-সূচক মাথা নাড়তে নাড়তে কিছুটা পিছিয়ে গেল।


“তার মানে আপনি এই বিয়ে কোনো প্রেশারে বা বাধ্য হয়ে করছেন না? আপনি ওনার ওপর রিভেঞ্জ নিতে চান?” ওর চোখে এক চরম অবিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ল।


“না। না, স্রেফ এটাই দেখতে চাই যে ও আসলে কী চায়।”


হানিন এবার জোরে মাথা নাড়ল।


“You know what মামু, আপনি এই বিয়েটা করেই নিন। আপনারা দুজনে একে অপরকে deserve করেন।”


বেশ রেগে গিয়ে কথাটা বলে সে উঠে দাঁড়াল।


ফারিস হালকা মুচকি হাসল।


হানিনের এই রাগ চটা কথা শুনে সে বেশ মজা পেয়েছে।


সে ঘাড় তুলে ওর দিকে তাকাল, যে এখন আর আগের মতো চশমা পরত না।


“চশমাওয়ালী হানিন কোথায় গেল?” ওর মুখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে সে যেন মনে কিছু খুঁজতে খুঁজতে ভাবল।


“চোখ দুটো operate করিয়ে নিয়েছিলাম। এখন তো চশমার কথা ভুলেই গেছি।” সে নিজের চোখ জোড়া সরিয়ে নিল।


এদিক-ওদিক তাকাতে লাগল, তারপর আবার যখন ওর দিকে তাকাল, তখন ফারিস গভীর চিন্তামগ্ন চোখে ওর মুখের দিকেই তাকিয়ে ছিল।


“তোমার মধ্যে কিছু একটা চেঞ্জ হয়ে গেছে।” মাত্র কয়েক দিন লেগেছিল, কিন্তু সে-ও ঠিক ধরে ফেলেছিল।


আর হানিন আপন মনেই ভাবল যে, পেছনের দেড়টা বছর অনেক বেশি ভালো ছিল, যেখানে এত আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হতো না আর কেউই ওকে এই কথাটা বলেনি যা এই আড়াই সপ্তাহে অনেকেই বলে ফেলেছে।


“আমি আগের মতোই আছি।”


“আগের মতোই খাই, আগের মতোই কথা বলি। আপনি ম্যাটারটা চেঞ্জ করার ট্রাই করবেন না।” বেশ অভিমানী ক্ষোভ নিয়ে সে রিমোটটা তুলতে যাবে, অমনি ভেতর থেকে আম্মুর হুংকার শোনা গেল।


“সায়াম, হানিন! আমি কি এবার জুতো হাতে নেব, তবে তোমরা নামাজের জন্য উঠবে?”


হানিন পা আছড়ে রিমোটটা রেখে দিল আর রাগে বিড়বিড় করতে লাগল, “জানি না এই জোর জবরদস্তির নামাজের কী লাভ!” আর মাথা ঝাঁকিয়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল।


ফারিস টিভির স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে গভীর ভাবনায় মগ্ন রইল।


🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼



Ek shikast ke badle mujh ko sab ke sab ilzaam na de... kuch kuch teri baat hai kacchi lekin poori theek nahi


[স্রেফ একটা পরাজয়ের বদলে আমার ওপর সমস্ত দোষ চাপিয়ে দিয়ো না... তোমার কিছু কিছু কথা হয়তো আলগা, কিন্তু পুরোপুরি মিথ্যাও নয়!]


---


পরের দিন সকালে কারদার প্যালেস নিজের সোনালি ডানা মেলে এমনভাবে উজ্জ্বল হয়ে উঠল যে, বারান্দার উঁচু সাদা পিলারের সারি ঠিক সোনার মতো চকচক করতে লাগল।


তেমনই একটা পিলারের পাশ ঘেঁষে হাশিম মোবাইলের বাটন টিপতে টিপতে এগিয়ে আসছিল।


একটা গ্রে স্ট্রাইপড স্যুট পরা, চুলগুলো জেল দিয়ে পেছনের দিকে সেট করা—সে অফিসের জন্য একদম রেডি ছিল।


পাশে চলতে থাকা জওয়াহেরাত মুচকি হেসে ওর দিকে তাকালেন।


সে একটা মেসেজ টাইপ করতে সিঁড়ির ওপরের ধাপে এসে থামল।


নিচের লনে গাড়ি একদম রেডি হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।


একজন কাজের লোক ব্রিফকেসটা গাড়ির ভেতরে রেখে দিয়েছিল, আর অন্যজন দরজা খুলে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল।


মেসেজটা পাঠিয়ে সে হেসে মায়ের দিকে তাকাল।


“আপনি আরামসে অফিসে আসবেন তো?”


“হুম, ১০টার মধ্যে।”


“শেরুকে সাথে নিয়ে আসবেন, আমি...” ফোনের রিংটোন বেজে উঠতেই সে থামল।


এক মিনিটের ইশারা করে ফোনটা কানে ঠেকাল।


“হ্যাঁ বলো। আচ্ছা। হ্যাঁ ঠিক আছে, তুমি আমার NGO-কে কাজটা দিয়ে দাও, ও হ্যান্ডেল করে নেবে।” ফোনটা কেটে সে জওয়াহেরাতের গালে চুমু খাওয়ার জন্য এগিয়ে যেতেই উনি এক ঝটকায় পিছিয়ে গেলেন।


হাশিম প্রথমে অবাক হলো, তারপর জওয়াহেরাতের চরম অবিশ্বাস্য বড় চোখ দুটো দেখে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে মাথা নাড়ল।


“আসলে সাদির ওই ম্যাটারটা নিয়ে আমি বড্ড বিজি হয়ে পড়েছিলাম, নয়তো আমি নিজেই আপনাকে জানাতাম।”


“তুমি কী বললে আমার NGO?” উনি একদম থতমত খেয়ে ওর দিকে তাকালেন।


“এতদিনে তো আপনার রাগ ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার কথা।”


“তুমি কী বললে, আমার NGO?” উনি চরম অস্থির অথচ চড়া গলায় বলে উঠলেন।


“আমি ওকে deport করাইনি, ওর এজেন্সির সাথেও কোনো কথা বলিনি। আপনাকে বলেছিলাম করাব, কিন্তু করাইনি। ফ্যাক্টরিতে কিছু মানুষের ওপর আমার নজরদারি রাখার দরকার ছিল, আর Mary-র চেয়ে বেটার এই কাজ কেউ করতে পারত না, সো আমি ওকে আটকে রেখেছি।”


“তুমি এটা কীভাবে করতে পারলে হাশিম?” জওয়াহেরাতের সেই অস্থিরতা এবার রাগে রূপ নিতে লাগল।


“তুমি কি ভুলে গেছ ও আমার নেকলেস চুরি করেছিল?”


“ওই নেকলেসটা, যা গত দেড় সপ্তাহ ধরে সাদির কাছে আছে?”


“ম্যাটারটা চুরির! ও তো নিজের অপরাধ স্বীকারও করে নিয়েছিল।”


“ঠিক এই জিনিসটাই ওকে আরও বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে Mummy। ও চুরি করেছে ঠিকই, কিন্তু কোনো মিথ্যে বলেনি। ও এতগুলো বছর আমাদের ফ্যামিলির প্রতি বিশ্বস্ত ছিল, ওর সন্তান অসুস্থ ছিল দেখেই ও এমনটা করতে বাধ্য হয়েছিল।”


“তুমি কীভাবে ওকে আবার কাজে রাখতে পারো? আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না।” উনি তখনও পুরো হতভম্ব ছিলেন।


“Relax Mummy। স্রেফ একটা মাসের কথা, আমার কাজটা হয়ে গেলেই আমি ওকে আবার ব্যাক পাঠিয়ে দেব।”


“ও আবার এমন কোনো কাজ করবে হাশিম, তোমার ওর ওপর ট্রাস্ট করা উচিত নয়।”


“কেন অকারণেই চিন্তা করছেন? হাশিম সবকিছু সামলে নেবে। স্রেফ একটা তো মাস Mummy।” ওর কাঁধের ওপর হাত রেখে ওনাকে একপ্রকার সান্ত্বনা দিল আর মুচকি হেসে বিদায় জানিয়ে বারান্দার সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেল।


জওয়াহেরাত ফ্যাকাশে চিন্তিত মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে চরম অস্থিরভাবে নিজের লকেটটা আঙুলে পেঁচাতে লাগলেন।


হাশিমের সেই বিশ্বস্ত কাজের মেয়ের ভরসা ভাঙতে ওনার পাক্কা দেড়টা বছর লেগেছিল।


কত কষ্ট করে ওর হাত দিয়ে এমনভাবে একটা অপরাধ করিয়েছিলেন যে, ওর নিজের কাকপক্ষীও টের পায়নি যে ওর আসল অপরাধটা কী ছিল!


আর এত কিছুর পরেও সে ঠিক এই শহরেই রয়ে গেল।


কিন্তু উনি চাইলেও ওপেনলি এর অপোজ করতে পারছিলেন না।


হাশিমের মনে কোনো ডাউট তৈরি হলে তো আর রক্ষে নেই।


সে না-সূচক মাথা নাড়ে ভেতরের দিকে চলে গেল।


হাশিমের গাড়িটা যখন মেইন গেটের কাছে এল, তখন আরেকটি গাড়ি ভেতরের দিকে ঢুকছিল।


ড্রাইভিং সিটে বসা শেহরিন-এর মুখটা দেখেই হাশিমের কপালে ভাঁজ পড়ে গেল।


সে একটা ইশারা ড্রাইভারকে করল, আর অন্য ইশারাটা সামনের গাড়িতে থাকা শেহরিনকে।


ড্রাইভার গাড়িটা একপাশে থামিয়ে বাইরে নেমে গেল।


কিছুক্ষণ পর পেছনের সিটের দরজা খুলে শেহরিন ওর পাশে এসে বসল।


সকালের আবহাওয়া অনুযায়ী সে একটা সাদা স্লিভলেস কুর্তি আর বেইজ কালারের ট্রাউজার পরে ছিল।


ওর গোল্ডেন বব কাট চুলগুলো মুখের দুপাশ বেয়ে নেমে আসছিল, একপাশে সিঁথি করা আর ওর উজ্জ্বল চেহারায় এক চরম দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট ছিল।


“আমি তোমাকে তিন দিন ধরে call করছি, তুমি attend করছ না!” ওনার দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে সে চরম অস্থির হয়ে বলতে লাগল।


“হাশিম, আমি সোনিয়ার মা, আমার সাথে এমনটা কোরো না। আমি ওকে ছাড়া কীভাবে বাঁচব?”


সে মাথা নিচু করে মোবাইলের বাটন টিপছিল, শেষ কথাটা শুনতেই ওর হাত জোড়া থেমে গেল।


এক কঠোর দৃষ্টি তুলে সে ওর দিকে তাকাল।


“তোমাকে এখানে এই জন্যই বসতে দিয়েছি যাতে কাজের লোকদের সামনে কোনো তামাশা না তৈরি হয়।” শেহরিন আপন মনেই মুখ ঘুরিয়ে দেখল—দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ড্রাইভার আর মেইন গেটে ডিউটিতে থাকা সিকিউরিটি গার্ড।


“তোমার কাছে স্রেফ পাঁচ মিনিট সময় আছে, যার মধ্যে অলরেডি দুই মিনিট তুমি নষ্ট করে ফেলেছ। যা বলার জলদি বলো, আর ছয় নম্বর মিনিট পড়ার আগেই তোমাকে আমার গাড়ি থেকে গেট আউট হতে হবে।”


“আমি flight এগিয়ে নিয়েছি। সোমবার আর মঙ্গলবারের মাঝের রাতে যেতে হবে। স্রেফ একটা মাসের জন্য। প্লিজ সোনিকে আমার সাথে যেতে দাও।”


“সোনি তোমার সাথে কোথাও যাবে না। ব্যস, কথা এখানেই শেষ।” কুঁচকানো ভুরু আর রুক্ষ গলার আওয়াজে সে কথাটা বলতেই শেহরিনের মুখের দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গেল।


“হাশিম, আমি এক সপ্তাহ ধরে সোনিকে দেখিনি পর্যন্ত! কারণ ও তোমার বাড়িতে আছে, আমি...”


“ও নিজের বাবার বাড়িতে আছে, আর এখন এখানেই থাকবে।”


“আমি ওর মা!”


“এই কথাটা তোমার আমার এগেইনস্টে ওই ছেলের হেল্প করার আগে ভাবা উচিত ছিল।” চরম তাচ্ছিল্য আর কর্কশ সুরে বলে হাশিম ওকে উপর-নিচ একনজর দেখল।


সে হাশিম আর নিজের মাঝের সিটের কাপড়টা চরম অসহায়ভাবে খামচে ধরল।


“ও আমার friend ছিল, ও আমার অনেক কাজ করে দিয়েছে। আমি স্রেফ ওর একটা favor রিটার্ন করছিলাম। ও তো তোমারও friend ছিল, আমার বিন্দুমাত্র আইডিয়া ছিল না যে ও তোমার এগেইনস্টে কিছু করছে। আমি তো এটাকে স্রেফ একটা adventure ভেবেছিলাম!”


“সবকিছু adventure হয় না শেহরিন!” কঠোর গলায় বলে সে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ড্রাইভারকে ইশারা করল।


“ওকে বলো যে জিনিসটা ও আমার থেকে চুরি করেছে, ওটা যেন ব্যাক করে দেয়। তবেই আমি সোনিকে তোমার সাথে যেতে দেব, আদারওয়াইজ নয়।”


“ও তো আমার সাথে কথাই বলতে চায় না!”


“সেটা...”


“তোমার পাঁচ মিনিট ওভার। এবার যাও।” সে আবার মোবাইল তুলে বাটন টিপতে লাগল।


শেহরিন চরম অসহায়ভাবে ওর দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর দরজার দিকে ঘুরল, ওটা খুলে হিল পরা পা-টা মাটিতে রাখতেই মাথা নিচু করে মোবাইলের বাটন টিপতে টিপতে হাশিম ধিমে আওয়াজে বলল,


“আর ও আমার friend নয়। হাশিমের মন থেকে যে একবার নেমে যায়, সে চিরকালের জন্যই নেমে যায়।”


শেহরিন একটা পা মাটিতে রেখে দরজাটা ধরে কয়েক পলকের জন্য পুরো স্তব্ধ হয়ে গেল।


গলার কাছে এক দলা কান্না এসে আটকে গেল, কিন্তু চোখের জল চোখের ভেতরেই চেপে রেখে সে বেশ শক্ত হয়ে গাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে এল আর দরজাটা একপ্রকার সজোরে আছড়ে বন্ধ করল।


গাড়িটা চোখের পলকে সামনে এগিয়ে যেতেই সে পেছন ফিরল।


পাথুরে রাস্তাটা ওপরের দিকে চলে গেছে আর পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছিল কারদার প্যালেস।


এক দৃঢ় চোখ নিয়ে সে ওই উঁচু রাজপ্রাসাদটার দিকে তাকাল আর এক কদম ফেলে ওপরের দিকে উঠতে লাগল।


এই বাড়িতে এখনও এমন একজন মানুষ ছিল, যে ওকে হেল্প করতে পারত।


🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼



Na ganwao nawak-e-neem kash, dil-e-reza reza ganwa diya... Jo bache hain sang samet lo, tan-e-daagh daagh luta diya


[অর্ধেক টানা ওই তিরগুলো অকারণ নষ্ট কোরো না, এই চূর্ণ-বিচূর্ণ হৃদয়টাকে তো আমি এমনিতেই হারিয়েছি... যে কটা পাথর বাকি আছে কুড়িয়ে নাও, এই ক্ষতবিক্ষত দেহটাকে তো আমি আগেই বিলিয়ে দিয়েছি!]


---


ইউসুফ সাহেবের বাংলোয় সেদিনের সকালটা অন্য যেকোনো দিনের চেয়ে অনেক বেশি ব্যস্ততা নিয়ে উদিত হয়েছিল।


লাউঞ্জে হুইলচেয়ারে বসা বড় আব্বা বারবার বড্ড চিন্তিত চোখে জুমারের ঘরের দিকে তাকাচ্ছিলেন, যেখান থেকে অনবরত নানা রকম আওয়াজ আসছিল।


ফজরের আজানের পরপরই এই তোড়জোড় শুরু হয়েছিল আর এখনও তা পুরোদমে জারি ছিল।


“সাদাকত, এই বক্সটা ধরো!”


“সাদাকত, এই বইগুলো কার্টনে ঢোকাও।”


“সাদাকত, এটা গ্যারেজে রেখে এসো।”


এর সাথে জুমারের কড়া ইনস্ট্রাকশনগুলোও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল।


বড় আব্বা চুপচাপ কিন্তু ভীষণ অস্থির হয়ে করিডোরের দিকে চোখ জোড়া আটকে রেখেছিলেন।


তিনি যেন সেই দ্বিতীয় জুতোটা ছুড়ে মারার অপেক্ষা করছিলেন, যা জুমার কিছুতেই ফেলছিল না।


হঠাৎ করেই ওকে আসতে দেখা গেল।


এক সাধারণ ঘরোয়া জামাকাপড় পরা, চুলে খোঁপা বাঁধা, দুই হাতে একটা খাকি কার্টন ধরে সে লাউঞ্জের মেঝেতে ওটা রাখল আর সোফায় এসে বসে পড়ল।


“সাদাকত!” কার্টনের চারদিকের ঢাকনাগুলো বন্ধ করতে করতে সে আওয়াজ দিল।


সাদাকত প্রায় দৌড়ে এল।


সাথে ডাক্ট টেপ আর কাঁচিটা ওর হাতে বাড়িয়ে দিল।


“এর মধ্যে আমার ইম্পর্ট্যান্ট documents আছে। যখন ফারিস সাহেবের বাড়িতে যাবে, তখন এগুলো আমার বাকি ল্যাগেজের একদম ওপরে রাখবে। কোনো কিছুর নিচে যেন চেপে না যায়।” টেপ দিয়ে কার্টনের মুখটা সিল করতে করতে সে বড্ড সহজভাবে ইনস্ট্রাকশন দিচ্ছিল।


“জি বাজি।” সে বড্ড বাধ্য ছেলের মতো মাথা নাড়ল।


কার্টনটা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে ওটা তুলে নিয়ে সে গ্যারেজের দিকে চলে গেল।


জুমার উঠে আবার নিজের ঘরের দিকে যেতে নিচ্ছিল, কারণ এখনও অনেক কাজ বাকি ছিল।


“তুমি এই সব কী কাজে লেগে আছ?” তিনি যেন বড্ড বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন।


জুমার একটা গভীর নিশ্বাস ফেলে ওনার দিকে ঘুরল।


“আপনি নিজেই তো বললেন রবিবারে আমার বিয়ে, সো আমি আমার জিনিসপত্র প্যাক করছি।”


“তোমার কি খারাপ লেগেছে মা? যদি কোনো objection থাকে তবে বলো, আমি...”


“আব্বা, আমার কোনো objection নেই। আপনি অকারণেই worried হবেন না। আমি আপনাকে আগেও বলেছি যে এত জলদি বিয়ে হওয়া নিয়ে আমার কোনো প্রবলেম নেই। আমার স্রেফ আপনার চিন্তা হচ্ছে।”


“আমি সাদির বাড়িতে চলে যাব, এই ঘরটা মাসের শেষের মধ্যে খালি করে দেব।”


“আর এই সবকিছু গোছানোর দায়িত্ব তো আলটিমেটলি আমারই, তাই না?” সে মায়াবী এক হাসি হেসে ওনার কাঁধের ওপর হাত রাখল।


“তুমি নিজের জামাকাপড় তো নিলে না!” ওনার দুশ্চিন্তা কিছুতেই কমছিল না।


“ভাবি বলেছিলেন উনি বিকেলবেলা আসবেন আর আমরা একসাথে গিয়ে শপিং করে নেব।” সে বড্ড শান্ত চোখে হেসে এক পরম স্বস্তিতে ওনাকে বোঝাচ্ছিল।


বড় আব্বা এক গভীর ভাবুক নজরে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা খোঁজার চেষ্টা করলেন।


“কিন্তু তুমি এই জলদি বিয়েতে খুশি তো মা?”


“আব্বা, যা পরে হতেই হতো, তা এখনই হয়ে যাওয়া ভালো। আমার কোনো প্রবলেম নেই। আচ্ছা, আমি এবার আমার জামাকাপড়গুলো প্যাক করে নিই।” ওনাকে একপ্রকার আশ্বস্ত করে সে নিজের স্লিভ দুটো ফোল্ড করতে করতে করিডোর দিয়ে এগিয়ে গেল।


আব্বা স্রেফ একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে মাথা নাড়লেন।


সে নিজের ঘরে এল আর খোলা সুটকেসটার দিকে তাকাল, যার পাশে হ্যাঙ্গারে কিছু জামাকাপড় ঝুলছিল।


সে ওগুলো হ্যাঙ্গার থেকে নামিয়ে ভাঁজ করতে শুরু করল, ঠিক তখনই করিডোরে কারও পায়ের আওয়াজ পাওয়া গেল।


“সাদাকত, এই শপিং ব্যাগগুলো...” সে বড্ড বিজি টোনে বলতে বলতে মাথা তুলল আর আচমকা পুরো জমে গেল।


দরজার চৌকাঠে সাদাকত দাঁড়িয়ে ছিল।


মাথা নিচু।


মুখে এক লাজুক ও দ্বিধাগ্রস্ত ভাব।


দুই হাতে একটা খাকি খামে মোড়ানো কিছু একটা ধরে রেখেছিল সে।


জুমার একদম স্থির হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রইল।


“বাজি... ওই যে আমার চাচি এসেছিলেন না সেদিন গ্রাম থেকে? কাল উনি আবারও এসেছিলেন। ওনাকে বলেছিলাম যে বাজির বিয়ে হতে চলেছে। এটা উনি গ্রাম থেকে আপনার জন্য নিয়ে এসেছেন।” সে এক কদম ফেলে ওর কাছে এল আর খাকি খামে মোড়ানো জিনিসটা বাড়িয়ে দিল।


জুমার ওটা নিজের হাতে নিল আর খামটা আলগা করে দেখল।


ভেতরে কাঁচ আর সুতোর কারুকাজ করা একটা চমৎকার চাদর ছিল।


“আমাদের ওখানে না মেয়েদের বিয়েতে এটা অবশ্যই দেওয়া হয়। তাই আমি চাচিকে বলেছিলাম বাজির জন্য একটা নিয়ে আসতে।” আঙুলগুলো একে অপরের সাথে মড়াতে মড়াতে, মাথা নিচু করে বড্ড লাজুক সুরে সদাকত কথাগুলো বলছিল, আর জুমার স্রেফ হাতের ওই চাদরটার দিকে তাকিয়ে ছিল।


“এটা ভীষণ সুন্দর সাদাকত।” সে বড্ড কষ্ট করে একটা ফ্যাকাসে হাসি হাসল।


“চাচিকে থ্যাংক ইউ বোলো, কিন্তু তুমি অকারণেই এত খরচ করতে গেলে কেন? আমার বিয়ে...” গলার কাছে যেন একটা ফাঁসের মতো এসে আটকাল।


সাধারণ বিয়েগুলোর মতো এই বিয়ে তো এটা?


“তাও বাজি, বিয়ে তো লাইফে একবারই হয়, যেমনই হোক না কেন।” সে কোনো এক গভীর ফিলোসফি আওড়াতে চেয়েছিল কিন্তু গুছিয়ে বলতে পারল না।


সো, জলদি করে শপিং ব্যাগগুলো তুলে নিল।


“এগুলো বাইরে রেখে আসছি বাজি।” সে চলে গেল আর জুমার ওভাবেই দাঁড়িয়ে ওই চাদরটার দিকে তাকিয়ে রইল।


চোখে এক তীব্র যন্ত্রণা খেলে গেল।


এক অসহ্য কষ্ট হচ্ছিল ওর।


তারপর চাদরটা হাতে নিয়েই সে এক ঝটকায় বাইরে বেরিয়ে এল।


করিডোরে এসে সে থমকাল।


ওনারা এখন হুইলচেয়ারে বসে টিভি দেখছিলেন।


“না, আমি এই বিয়ে করব না। এটা কোনো রিয়াল বিয়ে নয়। আমি স্রেফ ওকে ডেস্ট্রয় করতে চাই!” সে এতটাই নিচু স্বরে বিড়বিড় করল যে নিজের কান পর্যন্ত ওটা পৌঁছাল না, আব্বা তো অনেক দূরে ছিলেন।


তারপর আচমকা তিনি ঘাড় ঘোরালেন এবং দেখলেন সে করিডোরে দাঁড়িয়ে হাতের প্যাকেটটার দিকে তাকিয়েই যাচ্ছে।


“কোনো প্রবলেম মা?”


সে মনে মনে মাথা নেড়ে ওনার কাছে এল।


একদম ওনার মুখোমুখি এসে দাঁড়াল।


কিছু একটা বলার জন্য ঠোঁট দুটো খুলল, আবার বন্ধ করে দিল।


“এইমাত্র ফারিসের ফোন এসেছিল।” ওকে এভাবে চুপচাপ দেখে তিনি নিজেই বলতে শুরু করলেন।


“ও বলল কারদার ফ্যামিলির কাউকেই যেন বিয়েতে ইনভাইট না করা হয়। যদিও আমি মিসেস কারদার-কে ইনভাইট করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তাও আমি ফারিসের কথাই মেনে নিলাম। ও বেশ ম্যাচিউর ছেলে। নিশ্চয়ই কিছু ভেবেচিন্তেই বলছে।”


“আপনি রিজন জিজ্ঞেস করেননি?” জুমারের মুখের ওই দুশ্চিন্তা আর অস্থিরতা এবার কিছুটা শীতল এক্সপ্রেশনে বদলে যেতে শুরু করেছিল।


“রিজন যাই হোক না কেন, আমার ফারিসের ওপর পুরো ট্রাস্ট আছে। ও কোনো ভুল ডিসিশন নিয়ে আমাকে disappoint করবে না। তুমি কিছু বলছিলে মা?” ওনার আবারও খেয়াল হলো যে ও এখানে কেন এসে দাঁড়িয়েছে।


জুমার একটা গভীর নিশ্বাস নিল।


“হ্যাঁ। আমি এটা দেখাতে এসেছিলাম। দেখুন সাদাকত আমার জন্য কী নিয়ে এসেছে।” বড্ড ঠান্ডা ও নরম সুরে বলতে বলতে সে প্যাকেটটা খুলে ওনাকে দেখাতে লাগল।


সাদাকত ভেতরে আসতেই ওরা দুজনে চাদরটা মেলে দেখছিল আর ওটার তারিফ করছিল।


সে বড্ড লজ্জা পেয়ে কিচেনের দিকে চলে গেল।


🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼



Koi taweez ho radd-e-bala ka... Mere peeche mohabbat pad gayi


[বিপদ তাড়ানোর কোনো তাবিজ আছে কি... আমার পেছনে যে আজ ভালোবাসা হাত ধুয়ে লেগেছে!]


---


শেহরিন চুইংগাম চিবোতে চিবোতে, চোখে ডার্ক সানগ্লাস লাগিয়ে, বেশ কায়দা করে হেঁটে কারদার প্যালেসে এন্টার করল।


সামনেই লাউঞ্জের এক চড়া চেয়ারে জওয়াহেরাতকে বসে থাকতে দেখল, যিনি পুরো রানীর হালে রাজকীয় ভঙ্গিতে বসে কোলের ওপর রাখা নিউজপেপারটা মেলে দেখছিলেন।


পায়ের আওয়াজ পেয়ে উনি চোখ তুলে তাকালেন।


সামনে শেহরিন দাঁড়িয়ে ছিল।


“Good morning মিসেস কারদার! সোনি কোথায়?” সানগ্লাসটা কপাল থেকে চুলের ওপর তুলতে তুলতে সে এদিক-ওদিক তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল।


সাদিকে ল্যাপটপের পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর এটাই ফার্স্ট টাইম ছিল যখন সে এই বাড়িতে পা রেখেছিল, আর এই কারণেই সে জওয়াহেরাতের সাথে আই কন্টাক্ট করা এভয়েড করছিল।


“নিজের রুমে। আর শিওরলি তুমি এই কথা খুব ভালো করেই জানো যে সোনিকে এখান থেকে নিয়ে যেতে পারবে না।” উনি আবারও নিউজপেপারে মন দিলেন।


শেহরিন এক জ্বলন্ত দৃষ্টিতে ওনার দিকে তাকিয়ে নিজের রাগটা বড্ড কন্ট্রোল করল।


“Of course।” আলতো করে কাঁধ ঝাঁকাল সে।


আর সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে লাগল।


হিলের টুক-টুক আওয়াজ প্রতিটা ধাপের সাথে সাথে ওপরের দিকে চলে গেল।


জওয়াহেরাত মুচকি হাসতে হাসতে নিউজপেপার পড়তে লাগলেন।


ওপরে রেলিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে শেহরিন নিচের দিকে তাকাল।


একটুখানি হাসল।


আর তারপর ফুল কনফিডেন্সের সাথে নওশেরওয়ানের ঘরের বন্ধ দরজায় হাত দিয়ে নক করল।


ওর চোখ দুটো নিচে বসা জওয়াহেরাতের ওপর ফোকাস করা ছিল, যিনি নক করার জায়গাটা অনায়াসে আন্দাজ করতে পারলেও কোনো রকম রিয়্যাকশন দেখালেন না।


“শেরু, দরজা খোলো। আমার তোমার সাথে কথা আছে।” থার্ড টাইমের মতো নক করার পর সে ডাকল।


ঠিক তখনই দরজা খুলে গেল।


সামনে নওশেরওয়ান দাঁড়িয়ে ছিল।


ট্রাউজার আর শার্ট পরা, চুলগুলো একদম উস্কোখুস্কো।


চোখ দুটো লাল হয়ে ছিল।


সে ঘুম থেকে মাত্র জেগেছিল আর শেহরিনকে দেখে ওর ঘুম পুরো ছুটে গেল।


সে কোনো কথা না বলেই ঘরের ভেতরে চলে এল, ঘাড় ঘুরিয়ে রুমটা একবার দেখল আর বড্ড রিল্যাক্সড হয়ে একটা কাউচে বসে পড়ল।


এক পায়ের ওপর আরেক পা তুলে, পা দোলাতে দোলাতে সে শেরুর দিকে তাকাল।


“Fresh হয়ে এসো। আমাদের কথা বলতে হবে।” টোনটা বেশ সফট হলেও ওটাতে একটা জোর ছিল।


সে বেশ বিরক্ত হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল।


“সোনিয়ার ওই ম্যাটারটায় আমি আপনাকে কোনো হেল্প করতে পারব না। আপনার আমার থেকে কোনো এক্সপেক্টেশন রাখা উচিত নয়।” কয়েক মিনিট পর ওর সামনে বেডের কর্নারে বসা, মুখ-হাত ধুয়ে আসা শেরু ভুরু কুঁচকে বেশ রুক্ষ গলায় বলল, যদিও গলার ওই রুক্ষতাটা জাস্ট জোর করে আনা ছিল।


বারবার ওর টোনটা নরম হয়ে যাচ্ছিল আর সে ওটাকে আবার রাগ আর বিরক্তির চাদরে ঢাকছিল।


থেকে থেকেই সে চোখ তুলে শেহরিনের সুন্দর গোল্ডেন ফেসটার দিকে তাকিয়ে নিচ্ছিল।


সে একই কনফিডেন্স আর স্বস্তি নিয়ে ওর সামনে বসে ছিল।


“রাগ তো আমার তোমার ওপর হওয়া উচিত, কিন্তু তুমি আমার ওপর কেন খিটখিট করছ?”


“আপনি সাদির সাথে মিলে যা করেছেন, তার তো মাত্র কয়েক দিন হলো!” একটা ভাঙা গলায় বলতে বলতে সে এদিক-ওদিক তাকাতে লাগল।


“তুমি তো এই টাইপের পারসন ছিলে না শেরু, যে শেহরিনের কোনো কথাই শুনবে না। আমি না হয় হাশিমকে রিয়াল রিজনটা জানাইনি, কিন্তু তোমার তো এতটুকু জানা উচিত ছিল যে তুমি জিজ্ঞেস করলে আমি ডেফিনেটলি জানাতাম।”


“Real reason?” শেরু চমকে ওর দিকে তাকাল।


শেহরিনের চোখে একরাশ আফসোস নেমে এল।


“তাহলে তুমি কি একবারও ভাবোনি যে তোমার মতো আমাকেও ইউজ করা হতে পারে? আমিও এই কাজ করতে বাধ্য হতে পারি? আমার তোমার এই সেলফিশনেস দেখে বড্ড আফসোস হচ্ছে।” আর এক ঝটকায় সে উঠে দাঁড়াল।


“যখন তুমি আমার প্রবলেমটাই বুঝতে পারলে না, তখন আমার বলে আর কী লাভ! তুমি তো আমাকে বড্ড disappoint করলে শেরু!”


সে বড্ড আফসোসের সাথে বলতে বলতে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।


নওশেরওয়ান বড্ড ঘাবড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়াল।


“না, প্লিজ। আপনি যাবেন না। আমাকে বলুন তো ঠিক কী হয়েছিল?” ওর সমস্ত রাগ, অহংকার আর বিরক্তি যেন কর্পূরের মতো উড়ে গেল।


আর সে নিমেষেই বড্ড worried হয়ে পড়ল।


সে ওর দিকে ঘুরল।


এক কঠোর নজরে ওকে উপর-নিচ দেখল।


“আমি কেন বলব তোমাকে? তুমিই বা কোন আমার কথা বিলিভ করবে? তুমিও তো সাদির মতো আমাকে হিউমিলিয়েটই করবে।” বেশ অভিমানী ক্ষোভ নিয়ে সে নিজেই আবার বসে পড়ল।


এইবার নওশেরওয়ান যখন ওর সামনে বসল, তখন বেশ চিন্তিত হয়েই বসল।


“সাদি আপনাকে...” সে বেশ আমতা-আমতা করে জিজ্ঞেস করল।


“আমি সেদিন সাদিকে আমার friend বলেছিলাম, যখন তুমি আর হাশিম সোনিকে ড্রপ করতে এসেছিলে। ভুল বলেছিলাম আমি। এই জন্যই বলেছিলাম যাতে ওকে আসল কথা না জানাতে হয়।” বলতে বলতে সে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলল।


থুতনি পর্যন্ত ঝুলে থাকা চুলের গোল্ডেন ফেসের কাটিংটা আঙুল দিয়ে কানের পেছনে গুঁজল।


সে বেশ অবাক হয়ে কিন্তু ফুল অ্যাটেনশন দিয়ে ওর কথা শুনছিল।


“সাদি আমার friend নয়। তুমি তো আমাকে চেনো, আমি আর তুমি কী করে ওই টাইপের একটা ছেলেকে নিজের friend বানাতে পারি?” সে বড্ড বিরক্তি নিয়ে হাওয়া ওড়াল।


“ওর কাছে আমার একটা ভিডিও ছিল। একটা পার্টির ভিডিও—এখন ডিটেইলস জিজ্ঞেস কোরো না, জাস্ট ওই ভিডিওটা আমাকে scandalize করতে পারত। আমি ওকে বলেছিলাম যে ভিডিওটা ওই ক্লাবের সিস্টেম থেকে ডিলিট করে দিতে, কিন্তু ও অত সহজে ডিলিট করার পাত্র ছিল না। আমার থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছে এই কাজের জন্য আর বলেছিল যে বদলে একটা favor চাইবে। আমি কী করে জানব ও বদলে আমাকে দিয়ে তোমাকে ইউজ করাবে? উঁহু!” না-সূচক মাথা নেড়ে সে চোখ দুটো বন্ধ করে কপালে আঙুলগুলো রাখল।


নওশেরওয়ান একদম দম আটকে সব শুনছিল।


পুরো স্তব্ধ হয়ে।


“আমি তো ওর সাথে দেখাও করতাম না। ও আমাকে মলে গিয়ে ধরল সোনিয়ার পার্টির দিন সকালে। আর বলল এই কাজটা করে দিতে। আমি রিফিউজ করলাম তো ও বলল—আমি কি আপনার কাজ করার সময় এভাবেই রিফিউজ করেছিলাম? এটা একটা থ্রেট ছিল। আমি যদি না করতাম, তবে ও আমার ভিডিও লিক করে একটা স্ক্যান্ডাল বানিয়ে দিত। এরপর সোনিকে হাশিম আমার মায়া থেকেও দূরে সরিয়ে দিত। আমি তোমাদের সাথে কোনোদিনও দেখা করতে পারতাম না।” আর শেরুর মুখের এক্সপ্রেশন দেখতে দেখতে সে বড্ড ভগ্নহৃদয়ে বলছিল।


“তোমাদের” শব্দটা শুনতেই নওশেরওয়ানের চোখের বিস্ময় নিমেষেই ক্ষোভে বদলে যেতে লাগল।


ওই ক্ষোভে সাদির জন্য ঘৃণা আর শেহরিনের জন্য গভীর সিম্প্যাথি ছিল।


“ও আপনাকে blackmail করছিল? তাহলে আমাকে বা হাশিম ভাইকে কেন জানাননি?” নিজের স্বভাবমতো সে হুট করে সামনে এগিয়ে এল, যেন এখনই উঠে দাঁড়াতে রেডি।


শেহরিন বড্ড ঘাবড়ে গিয়ে দরজার দিকে তাকাল, যার ওপাশে নিচে জওয়াহেরাত নিউজপেপার পড়ছিলেন।


ওর এক পলকের জন্য ভয় লাগল যে এই বলদটা যদি এখনই হুংকার দিয়ে বাইরে চলে যায়, তবে পুরো গল্পটাই ফ্লপ হয়ে যাবে।


“হাশিম আমার কেউ হয় না, শেরু।” সে বাইরে থেকে বড্ড কন্ট্রোলড হয়ে বলল, কিন্তু ওর বড় বড় গ্রিন লেন্স পরা চোখে জল এসে গেল।


“হাশিম আমার স্বামী নয়। এই টাইপের ছেলেদের থেকে স্রেফ আপনার স্বামীরাই আপনাকে protect করে, আর আমার কোনো স্বামী নেই। আমি...” বুকের ওপর আঙুল রেখে এক বুজে আসা গলায় বলল।


“আমি একদম একা, পুরোপুরি একা।” নাক টেনে সে জলটা ভেতরে টানল, আঙুল দিয়ে চোখের কোণটা পরিষ্কার করল।


“আমাকে একটা টিস্যু এনে দাও। আমি জানি না কেন এত emotional হয়ে পড়ছি।” ভেজা গলায় হাসার একটা ফেইলড ট্রাই করে সে মুখটা ঘুরিয়ে নিল, যেন নিজের চোখের জল লুকাতে চাইছে।


নওশেরওয়ান ইমিডিয়েটলি উঠল আর বেডসাইড টেবিল থেকে টিস্যুর বক্সটা তুলে ওর সামনে ধরল।


সে বুঝেই উঠতে পারছিল না যে এখন কী বলবে।


“Thank you।” সে চোখ দুটো মুছে পরিষ্কার করল আর ওর দিকে মুখ ঘুরিয়ে হাসল।


“আমি তোমার থেকে সিম্প্যাথি নিতে আসিনি, আর এই জন্য আসিনি যে তুমি হাশিমের সাথে সোনিয়ার ব্যাপারে কথা বলো। বরং আমি তো বলব তুমি ওর সাথে কোনো কথাই কোরো না। আমি তোমাকে আর কোনো ট্রাবলে ফেলতে চাই না। ব্যস, তুমি আমার প্রতি নিজের মনটা পরিষ্কার করে নাও।” সে উঠে দাঁড়াল, পার্সের লম্বা চেইনটা কাঁধে ঝোলাল, হালকা করে নওশেরওয়ানের কাঁধে একটা চাপড় দিল আর বাইরে বেরিয়ে গেল।


সে একদম পাথরের মতো স্তব্ধ হয়ে বসে রইল।


সোনিয়ার রুমের দিকে যাওয়ার সময় সে রেলিংয়ের কাছে থামল, মুখ নিচু করে নিচে উঁকি দিল।


জওয়াহেরাত এখন আর ওখানে ছিলেন না।


সে মুচকি হাসল আর পুরো রাজকীয় চাল আর উঁচু ঘাড় নিয়ে সামনে এগিয়ে গেল।


🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼



Qatil se ishq bhi, maqtool se humdardee bhi... to bhala kis se mohabbat ki jaza maangega


[খুনির প্রতি ভালোবাসাও আছে, আবার মকতুল (খুন হওয়া ব্যক্তি)-র জন্য সহানুভূতিও... তাহলে কার কাছে নিজের এই প্রেমের পুরস্কার চাইবে!]


---


হাশিম কারদারের অফিসে এসি-র ঠান্ডা হাওয়া ছড়িয়ে ছিল আর সে নিজের কোটটা পরে, ‘পাওয়ার সিটে’ বসে ফোনটা কানে ঠেকিয়ে সামনে রাখা ফাইলের পেজগুলো ওল্টাতে ওল্টাতে বলছিল,


“ম্যাচিউর হও শেরু। ও মিথ্যে বলছে, বকবক করছে।” বড্ড বিরক্ত হয়ে সে শেরুর গল্পটা মাঝপথেই কেটে দিল।


“ওর অর্ধেক বয়সের একটা ছেলে ওকে blackmail করবে? পাঁচটা বছর কাটিয়েছি আমি ওই মহিলার সাথে, ও নিজেই গিয়ে নিজের প্রবলেম ওর কাছে শেয়ার করেছে।”


“কিন্তু ভাই, ও তো সাদি...” নওশেরওয়ান—যার শেহরিনের প্রতি নরম গলাটা সাদির নাম শুনতেই ক্ষোভে কাঁপতে শুরু করেছিল—সে আরও কিছু বলতে চাইল, কিন্তু হাশিম বড্ড বিজি ছিল আর বিরক্তও।


“সাদিকে আমি হ্যান্ডেল করে নেব, তুমি স্রেফ শেহরিনের থেকে দূরে থাকো।”


“কিন্তু আপনি সোনিয়াকে...”


“ও তোমাকে সেকেন্ড টাইম বোকা বানাচ্ছে শেরু। ফার্স্ট টাইম ওটার ওপর লানত, কিন্তু সেকেন্ড টাইম তোমার ওপর!” ওর টোনে এবার বিরক্তি আর রাগ স্পষ্ট ফুটে উঠছিল।


“আর এখন, আগামী আধ ঘণ্টার মধ্যে তোমাকে যেন আমি অফিসে দেখতে পাই।” ফোনটা কেটে সে টেবিলের ওপর ছুড়ে মারল আর মনে মনে কিছু একটা বিড়বিড় করতে করতে কলমদানি থেকে পেনটা বের করে পেপারসগুলোতে সাইন করতে লাগল।


কাজ শেষ করে ফাইলটা বন্ধ করল আর ইন্টারকমটা তুলল।


“হালিমা, খাওয়ার অফিসে আছে?”


“জি, উনি হয়তো নিচের ফ্লোরে আছেন।”


“ওকে আমার কাছে পাঠাও।” রিসিভারটা রাখতে রাখতে সে থামল।


“ওই ছেলেটা, সাদি ইউসুফ, ওর কোনো ফোন এসেছিল?”


“স্যার, আমি দুদিন আগে আবারও ওনাকে কল করেছিলাম, উনি বললেন যে নেক্সট উইকে আসবেন। দিন জানাননি। আমি কি ওনাকে কল করব?”


“উঁহু। ও নিজেই করবে। যাই হোক, ও যখনই আসতে চাইবে, সময় আর দিন না দেখে ওকে চলে আসতে বলে দিয়ো।” রিসিভারটা রেখে সে হেলান দিয়ে বসল আর কিছু একটা ভাবতে ভাবতে ওপরের ছাদের দিকে তাকাতে লাগল।


খাওয়ার ভেতরে ঢুকতেই সে সোজা হয়ে বসল।


এক গম্ভীর ও ঠান্ডা নজরে ওর দিকে তাকাল।


সে একটা ব্ল্যাক কোট আর প্যান্ট পরে ছিল, বেশ লম্বা চওড়া গড়ন।


টাই পরত না সে।


চুল আর গোঁফ দুটোই একদম কুচকুচে কালো ছিল।


গায়ের রঙটা শ্যামলা আর নাক-মুখের কাটিং বেশ শার্প ছিল।


হাত দুটো বেঁধে বড্ড গম্ভীর চালে সে সামনে এসে দাঁড়াল।


“ওই ইনফরমেশনটা পেয়েছ, যা আমি খুঁজতে বলেছিলাম?”


খাওয়ারের চোখে একরাশ হতাশা নেমে এল, সে না-সূচক মাথা নাড়ল।


“No sir। এখনও পর্যন্ত ওই ছেলের ব্যাপারে কোনো dirt পাওয়া যায়নি।”


হাশিম কিছুটা ক্ষোভ নিয়ে সামনে ঝুঁকে বসল।


“তাহলে তুমি এতগুলো দিন ধরে কী করছ? ও আর কিছুদিন পরেই আমার সামনে এসে দাঁড়াবে, আর আমার কাছে যদি ওর এগেইনস্টে কোনো leverage-ই না থাকে, তবে আমি ওকে হ্যান্ডেল করব কীভাবে?”


“স্যার, আমি আমার পুরো ট্রাই করেছি কিন্তু ও সব দিক থেকে একদম ক্লিন। নিজের ফ্যামিলির ও জানের টুকরো, তো বন্ধুদের আইডল। কারও কোনো কাজ থাকলে স্রেফ সাদি ইউসুফই ভরসা।” সে বেশ বিরক্তি নিয়ে বলছিল।


“পাড়ার চৌকিদার রাখা হোক বা গলির স্পিড ব্রেকার বানানো—প্রতিবেশীদের ছেলেরা ইমিডিয়েটলি ওর কাছেই যায়। বেস্ট স্টুডেন্ট আর জবের ক্ষেত্রে একজন অনেস্ট আর হার্ডওয়ার্কিং এমপ্লয়ি। ওর কোনো dirty secret আমি খুঁজে পাইনি। ছেলেটা যেন একপ্রকার ফেরেশতা!”


হাশিম হালকা একটু হাসল।


এক শীতল ও তিক্ত হাসি।


না-সূচক মাথা নেড়ে সে টেবিলের ওপর রাখা পেনটা আঙুলের মাঝে ঘোরাতে ঘোরাতে বলল, “আমি তোমাকে একটা কথা বলি খাওয়ার, দুনিয়ায় কেউই ফেরেশতা হয় না। সবারই কোনো না কোনো সিক্রেট থাকে। তুমি ঠিক জায়গায় খোঁজোনি বোধহয়।”


খাওয়ার আচমকা চমকে ওর দিকে তাকাল।


চোখ দুটো ছোট করে কিছু একটা ভাবল।


“আপনি একদম ঠিক বলছেন। একটা জায়গায় আমি সত্যিই দেখিনি।” তারপর ভাবতে ভাবতেই সে পজিটিভলি মাথা নাড়ল।


“একদম, ও কোনো ফেরেশতা নয়। আমাকে জাস্ট একটা দিন সময় দিন, ওর আসল রূপটা আপনাকে দেখাচ্ছি।” হাশিম মুচকি হেসে মাথা নাড়ল আর খাওয়ার বড্ড তাড়াহুড়ো করে বাইরে বেরিয়ে গেল।


হাশিম একটা গভীর নিশ্বাস ফেলে নিজের ভেতরের অস্থিরতাটা একটু কম অনুভব করল, তারপর মোবাইলটা তুলে জুমারের নম্বরটা ডায়াল করে কানে ঠেকাল।


সিটের ব্যাকরেস্টে হেলান দিয়ে সে এবার ঠোঁটের কোণে কোনো এক চেনা সুর গুনগুন করতে হাসিমুখে ছাদের দিকে তাকাতে লাগল।






চলবে,,,,,,


Comments

Popular posts from this blog

মুসহাফ - পর্ব: ০৩ (অনুবাদে: রেজওয়ান হোসেন মাসুম) (ফারিস্তে_ইব্রাহিম) (মেহমিল_ইব্রাহিম) (হুমায়ুন_দাউদ) (ফাওয়াদ_কারীম)

মুসহাফ - পর্ব: ০৪ (অনুবাদে: রেজওয়ান হোসেন মাসুম) (ফারিস্তে_ইব্রাহিম) (মেহমিল_ইব্রাহিম) (হুমায়ুন_দাউদ) (ফাওয়াদ_কারীম)

মুসহাফ - পর্ব: ১৩ (অনুবাদে: রেজওয়ান হোসেন মাসুম) (ফারিস্তে_ইব্রাহিম) (মেহমিল_ইব্রাহিম) (হুমায়ুন_দাউদ) (ফাওয়াদ_কারীম)